
প্রতীকী ছবি—
বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাসে হদিশ পায় স্বাস্থ্য দপ্তর। ২জন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হবার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল ও ছড়িয়েছিল। আর এবার সেই ২জন স্বাস্থ্য কর্মীর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতের এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন।জানা গেছে, গত ৪ঠা জানুয়ারি থেকে দুই নার্স ভর্তি ছিলেন বারাসাতের ওই হাসপাতালে। প্রায় ৩৯ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর, আজ মৃত্যু হল এক নার্সের। আরো জানা গেছে,তিনি কাটোয়ার বাসিন্দা ওই নার্স জ্বর ও ডায়রিয়া আক্রান্ত হন। পরে তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতের ওই বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি হয়েছিলেন। ভেন্টিলেশনের সাপোর্টে রাখা ছিল দুজনকেই। ইতিমধ্যে একজনের নার্স হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ।জানা গেছে ,পরে আরো দুজনকে ভর্তি করা হয়েছিল যদিও তাদের শরীরে কোন নিপার খোঁজ পাওয়া যায়নি।
উলেখ্য, গত জানুয়ারি মাসে রাজ্যে নিপা ভাইরাস সংক্রমণের আবহে নিপা আক্রান্ত ২নার্সের শরীরের সংক্রমের উৎস খুঁজতে বাঁদুর ধরে ধরে যে সমীক্ষা শুরু হয়েছিল তার প্রাথমিক রিপোর্ট ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে। জানা গেছে, উত্তর২৪পরগণার মধ্যমগ্রাম থেকে ধরা ৯টি বাদুড়ের আরটিফিসিয়ার টেস্ট রিপোর্টিং নেগেটিভ এসেছে।
পুনের ন্যাচারাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি এবং বন মন্ত্রকের প্রতিনিধি দল যৌথভাবে মধ্যমগ্রামের কুবেরপুর এলাকা থেকে ৯টি বাদুর সংগ্রহ করেছিল। তাদের লালা ও শরীরের অন্যান্য নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, কারো শরীরে বর্তমানে নিপা ভাইরাসের কোন অস্তিত্ব নেই। তবে একটি বাদুরের রক্তে অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে, বিশেষজ্ঞদের মতে এর অর্থ হল ওই বাদুড়টি অতীতে কোন ভাইরাসের সংস্পর্শ এসেছিল। যদিও বর্তমানে সময়ে এসে সংক্রমণ ছড়াতে অক্ষম। সংক্রমনের উৎস নিশ্চিত করতে সমীক্ষা এখনো জারি থাকবে।সম্পতি বারাসাত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তরুণ নার্সের শারীরিক অবস্থা উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।।আরো জানা গেছে, আরেকটি আরটিপিসিয়ার টেস্ট নেগেটিভ পেলেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে অপর এক আক্রান্ত নার্সের অবস্থা এখনো কিছুটা সঙ্কটজনক এবং তিনি ভেন্টিলেশনের সাপোর্টে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছিল। যদিও স্বস্তির বিষয় হলো ওই দুই নার্সের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের নমুনা পরীক্ষা করে রিপোর্টও নেগেটিভ এসেছে ।
এদিকে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও কোন ভাবে ঢিলেমি দিতে নারাজ রাজ্যের রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর।জানুয়ারি মাসে ইনস্টিটিউট অব হেলথ এন্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ারের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও গবেষকদের নিয়ে একটি বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে ভাইরোলজি সিদ্ধার্থ জোয়ারদার সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়ে ছিলেন, “এই ঘটনা অতিমারি প্রতিরোধের আগাম প্রস্তুতির অ্যাসিড টেস্ট। জাতীয় স্তরের আদলে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর গঠন করেছে ওয়ান হেলথ কমিটি”। এদিনের সেমিনারে নিপা আক্রান্তদের সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি এবং নির্দিষ্ট এন্টিভাইরাল ওষুধের সঠিক মাত্রা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছিলেন ডা: অনিতা নন্দী ও ডা: সমরেনাথ হালদার মতো বিশেষজ্ঞরা।

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

খবর এবং বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন:- ৯১৫৩০৪৩৩৮০
