দেশীয় উৎপাদন, রপ্তানি ও উদ্ভাবনে নতুন উচ্চতায় ভারতের খেলনা শিল্প

রাজ্য

(ছবি-তোতন দাশ )

     নিতাই মালাকার (কোলকাতা)বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- ভারতের খেলনা শিল্প দেশীয় উৎপাদন, রপ্তানি এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের হাত ধরে দ্রুত বিকাশের পথে এগোচ্ছে। প্রায় পাঁচ হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী খেলনা নির্মাণশিল্প আজ আধুনিক প্রযুক্তি, নকশা এবং উদ্যোগের সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে।
দেশের ১.৪ বিলিয়নেরও বেশি জনসংখ্যার বড় অংশই তরুণ হওয়ায় খেলনার অভ্যন্তরীণ বাজার দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে। ই-কমার্সের বিস্তার, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষামূলক, দক্ষতা-ভিত্তিক খেলনার চাহিদা বাড়ায় শিল্পটি নতুন গতি পেয়েছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR) ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট খেলনার জনপ্রিয়তাও বাড়ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ সালে ১৫২.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ২০২৫-২৬ সালে খেলনা রপ্তানি বেড়ে ৩৮৪.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা প্রায় ১৫২ শতাংশ বৃদ্ধি। একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ও শিক্ষামূলক খেলনার আমদানি ৬৬ শতাংশ কমেছে। ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে খেলনা খাতে ভারত ১৫২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ড ভারতীয় খেলনার প্রধান রপ্তানি বাজার হিসেবে উঠে এসেছে।
এই শিল্পের প্রসারের ফলে কর্মসংস্থানও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৮-১৯ সালে যেখানে প্রায় ৮,৭০০ জনের কর্মসংস্থান ছিল, ২০২৩-২৪ সালে তা বেড়ে ১৭,৬৯৩-এ পৌঁছেছে। গ্রামীণ কারিগর, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং ছোট শিল্পের জন্যও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে।
দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহ দিতে কেন্দ্র সরকার ২০২০ সালে ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান ফর টয়স (NAPT) চালু করে। খেলনার গুণমান নিশ্চিত করতে কোয়ালিটি কন্ট্রোল অর্ডার (QCO) ও বাধ্যতামূলক BIS শংসাপত্র কার্যকর করা হয়েছে। পাশাপাশি খেলনার ওপর জিএসটি ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে এবং আমদানিকৃত খেলনার শুল্ক বাড়িয়ে দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া টয়কাথন, ই-টয়েস ল্যাব, ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট (ODOP), জিআই-স্বীকৃত ঐতিহ্যবাহী খেলনার প্রচার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি এবং জেলা ভিত্তিক রপ্তানি হাব তৈরির মতো উদ্যোগ শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি নীতিগত সহায়তা, উদ্ভাবন এবং দেশীয় উৎপাদনের জোরে ভারতের খেলনা শিল্প ভবিষ্যতে বিশ্ববাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলবে এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-র অন্যতম সফল ক্ষেত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *