
বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তনের পথে হাঁটল রাজ্য সরকার। সোমবার বিকাশ ভবনে প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, মাধ্যমিক স্কুল থেকে শুরু করে কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিকাঠামো নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিক্ষা স্কুল পরিকাঠামো উন্নয়নের জোড় দেওয়া থেকে শুরু করে মিড ডে মিলের রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার হবে বলেও জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী ।
রাজ্যেপালা বদলের পর শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর বার্তা দেওয়া হয়েছিল। বিগত তৃণমূল জমানায় জাতীয় শিক্ষানীতিকে আটকে রাখা হয়েছিল। এবার সেই নীতিকে কার্যকর করা হবে বলেও ঘোষণা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকার। রাজ্যের স্কুলগুলির মানোন্নয়ন করে স্কুলছুটের সংখ্যা কমাতে এবং শিক্ষার মান বাড়াতে রাজ্য সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়ে দেন তিনি। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ শিক্ষা যৌথ তালিকাভুক্ত হওয়ায় কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারেরই সমান দায়িত্ব রয়েছে। আগামী ১লা আগস্ট থেকে শিক্ষা ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে’।
গত তিন বছর ধরে কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি না মানার ফলে কেন্দ্র টাকা দিতে চাইলেও রাজ্য তা পায়নি। তবে এখানকার সরকার জাতীয় শিক্ষানীতির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার ফলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই অর্থ বর্ষের কেন্দ্রীয় গ্র্যান্টের টাকা হাতে চলে আসবে। এই টাকা দিয়ে রাজ্যের ৮১ হাজার স্কুলকে লক্ষ্যমাত্রা করে পরিকাঠামো সংস্কার করা হবে’। পাশাপাশি তিনি জানান, সব স্কুল পরিচ্ছন্ন হবে। স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য মিড ডে মিলের রান্না এবার থেকে গ্যাসে হবে। স্কুলগুলিতে সোলার সিস্টেম বসানো হবে। পরিশ্রুত পানীয় জল পাওয়ার জন্য অ্যাকোয়া গার্ড লাগানো হবে। যাতে হাইজেনিক পরিবেশের ভালো থালায় খেতে পারে তা সুনিশ্চিত করা হবে। সমস্ত বালিকা বিদ্যালয় এবং কো এডুকেশন স্কুল-কলেজের -ছাত্রীদের জন্য স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন বসানো হবে। শিক্ষাকে পণ্য করতে দেব না। স্কুলে স্কুলে অভিভাবকদের নিয়ে কমিটি হবে। সমস্ত স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে’।
এছাড়াও সমাজমাধ্যমে নিয়োগের দিনক্ষণ নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের উদ্বেগের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে জানান, আগের সরকারের ওবিসি নীতির ভুলের এই গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়া আইনি জটে আটকে ছিল। এখনকার সরকার বিধানসভায় আইনে এনে প্রথম সেই ভুল সংশোধন করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায় ৮ই জুলাই সুপ্রিম কোর্টের গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষ হতেই আমরা ওবিসি মামলার বিষয়টি কোর্টে মেনশন করেছি। আগামী কদিনের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের আইনের জটিলতা থেকে রাজ্য সরকার পুরোপুরি বেরিয়ে আসবে। তারপরই যে ৬ হাজার প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষা হয়ে গিয়েছে, তাদের নিয়োগ এবং বাকি ৬হাজার পদের বকেয়া ইন্টারভিউ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।






