
তপন কুমার দাস,বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- আজ থেকে মথুরাপুরের কৃষ্ণচন্দ্রপুরে শুরু হল অন্ধমুনির মেলা।চলবে ৭দিন ধরে। মেলায় মনিহারি,খেলনা,মাটির বিভিন্ন পুতুল,খাবারের দোকান সহ প্রায় ২০০টির বেশি ছোট বড় স্টল এবার এসেছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর এক নম্বর ব্লকে অন্তর্গত কৃষ্ণচন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে অধীনে অনুষ্ঠিত হয়, অন্ধ মুনির মেলা। অন্ধ মুনির মেলা সাধারনত রামায়ণে বর্ণিত অন্ধ পিতা-মাতা একমাত্র সন্তান শ্রবণ কুমারের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার স্মৃতিচারণ এবং পিতা-মাতার ভক্তির আদর্শকে স্মরণ করে আয়োজিত হয়। কথিত আছে, রাজা দশরথের ভুলের কারণে পুত্র শোকে অন্ধ মুনির অভিশাপ দেওয়ার পৌরাণিক কাহিনী উপর ভিত্তি করে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলার পিছনে মূল কারণ ও কাহিনী, শ্রবণ কুমারের ভক্তি।
কথিত আছে ,শ্রবণ কুমার ছিলেন, একজন পরম পিতামাতার ভক্ত। তিনি তাঁর অন্ধ বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে কাঁধে করে তীর্থে ভ্রমণে নিয়ে যেতেন।এক দিন শিকার করার সময় রাজা দশরথ হরিণ মনে করে শব্দভেদী, তীর নিক্ষেপ করলেন।আর তাতেই শ্রবণ কুমার নিহত হন। একমাত্র পুত্রকে হারিয়ে অন্ধ পিতা-মাতা পুত্র শোকে কাতর হয়ে দশরথকে অভিশাপ দেন যে, “তিনি ও একইভাবে পুত্র শোকে মারা যাবেন”। এই পৌরাণিক কাহিনীর প্রেক্ষাপটে এবং তাদের পিতৃ মাতৃ ভক্তিকে শ্রদ্ধা জানাতেই এই মেলা বা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়,।

এই মেলাটি প্রায় সাত দিনব্যাপী চলে। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী এলাকায় শ্রী চৈতন্যদেব মহাপ্রভু পদব্রজে এসেছিলেন এবং ওখানের পুকুরে স্নান করে আবার তিনি উড়িষ্যার দিকে চলে যান। অন্ধ মুনির তলায় শ্রী চৈতন্যদেবের পায়ের চিহ্ন আছে। তাই প্রতি বছর বিশেষ তিথি ধরে অন্ধ মুনির পুজো হয় এবংসেই সঙ্গে শ্রীচৈতন্যদেবের পাদো পৃষ্ঠের ও পূজা হয়।
এবিষয় অন্ধমুনি মন্দিরের পুরোহিত সুশান্ত বৈরাগী বলেন, “প্রতি বছর সরস্বতী পুজোর ১৫দিন পর আন্ধমুনি বাবার জন্মতিথি উপলক্ষ্যে এই মেলা হয়।ঠিক কবে থেকে শুরু হয়েছিল তা সঠিক ভাবে কেউ জানেনা।তবে আমাদের বিগত ৭-৮পূর্বপুরুষ ধরে এই মেলা চলে আসছে”।এখানে দক্ষিণ২৪পরগণা জেলার পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্তপ্রান মানুষজন আসেন তাদের মনবাসনা পুরনের জন্য পুজো দেন।

ADVT

ADVT


ADVT

ADVT

ADVT

খবর এবং বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন:- ৯১৫৩০৪৩৩৮০
