
বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- প্রয়াত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মুকুল রায়। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রবিবার রাতে মৃত্যু হয় তাঁর। দীর্ঘদিন ধরে কোমায় ছিলেন। শেষে রবিবার রাতে কোলকাতা এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। মৃত্যু কালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।
স্বাস্থ্যের কারণে বহুদিন রাজনীতি থেকে তিনি অনেকটাই দূরে ছিলেন। কিন্তু আলোচনায় ছিলেন সব সময়। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ। তাঁর পরিবার। পরিবারের তরফ থেকে শুভ্রাংশু রায় সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে জানান “শেষ যুদ্ধ জিততে পারলে না। অনেক কষ্ট পাচ্ছিলেন”। তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কোলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতাল থেকে মুকুল রায়ের দেহ নিয়ে আসা হবে কাঁচরাপাড়ার বাড়িতে। মুকুল রায়ের প্রয়াণে রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
উল্লেখ্য ,এক সময় তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ডে কমান্ড বলেই পরিচিত ছিলেন তিনি। তৃণমূল প্রতিষ্ঠার সময় কাল থেকে এই দলে ছিলেন মুকুল রায়। একসময় তাঁকে দলের ‘চাণক্য’ বলা হতো। দলের রাজনৈতিক সমীকরণ বোঝা ও সাজানোর তাঁর তীক্ষ্ণ বুদ্ধি সদা আলোচনায় থেকেছে। এক সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম বিশ্বস্ত সৈনিক হিসেবে ২০১৭ সালের ১১ই অক্টোবর তৃণমূল ছাড়ার ঘোষণা করেন। সেই সাথে প্রায় এক মাস পর, সে বছরই ৩রা নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগদান করেন মুকুট রায়। প্রথম থেকেই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছেন তিনি। ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে বিজেপি দলে নেপথ্যে থেকে কাজ করেছেন। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটে বিজেপি তাঁকৈ কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রের প্রার্থী করে। এখানে তৃণমূলের প্রার্থী কৌশানী মুখোপাধ্যায়কে ৩৫ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে বিধায়ক হন মুকুল রায়। তবে তারপরই তাঁর রাজনৈতিক জীবনে আসে নতুন মোড় । ২০২১ সালের ভোটে বিজেপির হয়ে জেতা পরই ২০২১ সালের ১১ই জুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর উপস্থিতিতে তৃণমূল অফিসে দেখা যায় মুকুল রায় কে। পরে বিধানসভার অধ্যক্ষের ঘরে শুনানিতে মুকুল রায়ের আইনজীবীরা যে পিটিশন জমা দেন, তাতে দাবি করা হয় মুকুল রায় বিজেপিতে আছেন। কখনো তৃণমূলে যাননি। শেষ কয়েক বছর মুকুল রায় কোন দলের তা নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়। তাঁর বিধায়ক পদ খারিজের দাবিতে কোলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হন বিধানসভার বিরোধী দলনেত নেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির বিধায়ক অম্বিকা রায়। গতবছরের ১৩ই নভেম্বর মুকুল রায়ের বিধায়ক পথ খারিজ করে দেয় কোলকাতা হাইকোর্ট। আদালতে সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায়। চলতি বছরের গত ১৬ই জানুয়ারি মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ নিয়ে কোলকাতা হাইকোর্টের সেই রায়ের স্থগিতাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ। ফলে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক পদেই ছিলেন মুকুল রায়।

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

খবর এবং বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন:- ৯১৫৩০৪৩৩৮০
