
তপন কুমার দাস,বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:-এলাকায় এক অচেনা মহিলাকে ইতস্তত ঘুরতে দেখে স্থানীয় গ্রামের মানুষজনদের ছেলে ধরা সন্দেহ হয়। তবে তাকে মারধর না করেই সরাসরি পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয় বাসিন্দারাই। গত দু-তিন দিন আগে এই ঘটনা ঘটেছে সাগরদ্বীপের বঙ্কিমনগর এলাকায়। পরে পুলিশ জানতে পারে ওই মহিলা মানসিক ভারসাম্যহীন। তাঁর বাড়ি এবং পরিচয় জানতে হ্যাম রেডিও সহযোগিতায় অবশেষে খোঁজ পাওয়া যায় ওই মহিলার বাড়ি ।১৪ বছর নিখোঁজ থাকার পর ছেলের হাত ধরে বাড়ি ফিরছে সিঙ্গুরের ছবি জ্যোতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,বেশ কিছুদিন ধরে চারিদিকে যখন ছেলেধরার খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে ।এর মধ্যে গত কয়েকদিন আগে সাগর থানার অন্তর্গত বঙ্কিমনগর গ্রামে এক অপরিচিত মহিলাকে ঘুরতে দেখেন স্থানীয়রা, নাম পরিচয় জিজ্ঞেস করলে তেমন কিছু সদুত্তর তাঁর কাছ থেকে জানতে পারেনি। খবর পেয়ে তাঁকে সাগর থানার পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে,।নাম- ঠিকানা জানার জন্য খবর দেওয়া হয় হ্যাম রেডিও-কে।বহু খোঁজার পর সিঙ্গুর এলাকায়
তাঁর বাড়ি। পাশাপাশি ওই মহিলার ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে হ্যাম রেডিও সদসরা।ফোনে ভিডিও কলিংএর মাধ্যমে, মাকে দেখে চিনতে পারেন ছেলে। হ্যামরেডিও সদস্যদের ওই মহিলার ছেলে জানান, মায়ের নাম ছবি জ্যোতি (৬৮)।বাবা মারা যাওয়ার পর প্রায় ১৫ বছর আগে মা বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। অনেক খুঁজেও পাওয়া যায়নি। গত প্রায় দু’বছর আগে একবার খবর পেয়েছিলেন কিন্তু সেখানে গিয়েও খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানান ওই মহিলার ছেলে,।
তবে হ্যামরেডিও সদস্যদের জানান,মাকে নিতে আসবেন । কিন্তু তিন দিন কেটে গেলেও ছেলের কোন তৎপরতা কিংবা যোগাযোগ না করায়, বিষয়টি স্থানীয় পঞ্চায়েত, বিডিও, এবং সিঙ্গুর থানাতেও জানানো হয় প্র্শাসনিক স্তরে। এদিকে ওই মহিলার ছেলে নানা টালবাহানা করতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে হ্যাম রেডিও প্রতিনিধি দিবস মন্ডল যোগাযোগ করে বিস্তারিত জানান, রাজ্য পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিকে । অবশেষে আজ তাঁর ছেলে সুরজিৎ জ্যোতির সঙ্গে বাড়ি ফিরছেন ছবি দেবী।
এবিষয় ওয়েস্ট বেঙ্গল হ্যাম রেডিওর সম্পাদক অম্বরিশ নাগ বিশ্বাস জানান, ১৫ বছরের বেশী সময় ধরে নিখোঁজ মা । একমাত্র ছেলের খোঁজ সিঙ্গুরে। বি ডি ও থেকে সিঙ্গুর থানা, পঞ্চায়েত প্রধান থেকে মেম্বার সবার চেষ্টার ফল শূন্য । মাকে নিতেই আসলো না ছেলে। গঙ্গা সাগরে ছেলে ধরা সন্দেহে গ্রাম বাসিদের থেকে উদ্ধার করে হ্যাম রেডিও মাধ্যমে পরিবারকে খুঁজে পাওয়া যায়। হয়তো ঐ মহিলার এবার ছেলেধরা গুজবে বেঘোরে প্রাণ যেতে পারে। ছেলেকে বলা সত্ত্বেও নারাজ ছেলে । বিভিন্ন ধরনের বাহানা করছে।
আজ সকালে পঞ্চায়েত প্রধানকে জানাও হয় যে, খোঁজ পাবার পরেও ছেলে না আসলে যদি কোনো কারণে মায়ের মৃত্যু হয় তার দায় ছেলেকেই নিতে হবে। তারপর চাপ সৃষ্টি করে ছেলেকে নিয়ে আসে গ্রামবাসীরা।
মাকে ফিরে পেয়ে, ধন্যবাদ জানিয়েছেন সাগরের এস ডি পিও, সাগর থানার ওসি, এবং হ্যাম রেডিওর প্রতিনিধিদের ।

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT



খবর এবং বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন:- ৯১৫৩০৪৩৩৮০
