ডায়মন্ডহারবার স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় -পরিবেশ দিবসে মায়ের নামে বৃক্ষ রোপণ করলেন প্রাক্তন বিধায়ক দীপক হালদার

রাজ্য

তোতন দাশ, বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- একদিকে প্লাস্টিকের দাপট আর অন্যদিকে  বেআইনি নির্মাণের জেরে  নির্বিচারে গাছ কাটা,জলাভূমি ভরাটের মত বেআইনি কাজ। পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকার নয়। আপনারও বিশ্ব পরিবেশ দিবসে প্রকৃতির অস্তিত্ব রক্ষায় এখন একজোট হওয়ার সময় এসে গেছে।
‘একটি গাছ মায়ের নামে’- আজ ৫ইজুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পশ্চিবঙ্গের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে দক্ষিণ২৪পরগণার ডায়মন্ডহারবারে মেরা যুব ভারত- এর উদ্যোগে পালিত হল বৃক্ষরোপন কর্মসূচি।ডায়মন্ডহারবার মহকুমা স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় প্রশিক্ষণরত ক্ষুদে ফুটবলারদের সঙ্গে নিয়ে এদিন চারা গাছ রোপন করেন প্রাক্তন বিধায়ক দীপক হালদার।উপস্থিত ছিলেন,ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রাক্তন ফুলবলার সুনিমল চক্রবর্তী,ফুটবলার তাপস বারিক,সমাজসেবি সহদেব পানুয়া,সমাজসেবি উত্তম দাস প্রমুখ।এদিন দীপক হালদার বলেন, প্রতিবছর ৫ই জুন বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব পরিবেশ দিবস। ১৯৭২ সালে ইউনাইটেড নেশন এর উদ্যোগে এই দিবসের সূচনা হয় পরিবেশ রক্ষা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন কড়াই ছিলো যাদের মূল উদ্দেশ্য।

 প্লাস্টিকের  যথেষ্ট ব্যবহার, যানবাহনের ধোঁয়া এবংঅবৈধ্য নির্মাণের জেরে নির্বিচারে জলাভূমি ভরাট, গাছ কাটার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এর প্রভাব হিসেবে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা বাড়ছে, তাই পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব আগে যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।পাশাপাশি তিনি আরও বলেন,আমাদের এই পরিবেশকে অত্যন্ত নির্মল করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহন করে।আজ বিশ্বপরিবেশ দিবসে একটি চিন্তা ভাবনা বা প্রকল্প সেটা হল এই ‘মায়ের নামে বৃক্ষ রোপন’।প্রত্যেকে যে যার মায়ের নামে একটি বৃক্ষ রোপন করে আজকে যে কর্মসূচি বাস্তবায়িত করা হচ্ছে তা আমাদের পরিবেশকে সুন্দর এবং নির্মল করার জন্যে।আমারা যেখানে আজ দাঁড়িয়ে আছি সেই ডায়মন্ডহারবার স্টেডিয়াম মাঠ আমাদের লক্ষ্য সেটাকে সুন্দর করার এবং পরিবেশ দূষণ থেকে মুক্ত করা।কিন্তু আমরা দেখছি বিগত দিনে যে সরকার এই খেলার মাঠকে অত্যন্ত অস্বচ্ছ ভাবে রেখে দিয়েছে।খুব খারাপ অবস্থাতে আছে।ইতিমধ্যে ডায়মন্ডহারবারের মহকুমা শাসক আমাদের আবেদনক্রমে পদক্ষেপ নিয়েছেন খুব দ্রততার সঙ্গে যাতে মাঠটা সুন্দর হয় এবং মাঠের পরিবেশ আরও ভালো হয় তার জন্য পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে।বিগত সরকারের সময় কিছু হার্মাদরা, বিভিন্ন করে কর্মে খাওয়া নেতারা,তোলাবাজরা, তারা বিভিন্ন জায়গায় গাছপালা কেটে বিক্রি করে দিয়েছে।যার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে দিয়েছে বলে আমরা মনে করছি।সেজন্য আমরা চাইছি প্রতিটি জায়গাতে বেশি বেশি সংখ্যক বৃক্ষ রোপণ করুন’।

এদিন তিনি স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকার পাশাপাশি ডায়মন্ডহারবার ‘ছোট নদী’ পাড়ে বিভিন্ন ধরনের গাছ রোপন করেন।

অন্যদিকে মায়ের নামে একটি গাছ-বিশ্ব পরিবেশ দিবসে নলবনের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে গাছ পোঁতার সঙ্গে সঙ্গে পুকুরে মাছের চারা ছাড়তেও দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। আর এখান থেকে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারি।তিনি বললেন,চলতি বছরে ১কোটি ১০লক্ষ গাছ রোপণ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।     

  প্রসঙ্গত ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর শুভেন্দুর সরকার প্রথম এসে বাংলায় এক অভিনব ডিজিটাল উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। সেই সাথে শুভেন্দু অধিকারী ,’স্বচ্ছতা’ অ্যাপ চালু করেছেন। যেখানে মানুষ যত তত পড়ে থাকা জঞ্জালের ছবি দিলেই মাত্র দু ঘন্টার মধ্যে সেই আবর্জনা সাফ করার প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল  ঘোষণা করেছেন, প্রথম তিন মাস তার দপ্তর সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার প্রচার চালাবে। যাদের কেউ যথার্থ আবর্জনা না ফেলেন কিংবা যেখানে সেখানে থুতু ফেলে পরিবেশ নোংরা না করেন তাই ১০০ মিটার দূরত্বে ডাস্টবিন বসানো হবে বলেও তিনি জানান। তিন মাস পর অর্থাৎ সেপ্টেম্বর থেকে রাস্তাঘাটে নোংরা ফেলা অপরাধে জরিমানা অবধি হতে পারে।  

ADVT

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *