হাতুড়ে দিয়ে আধুনিক চিকিৎসা ! অভিষেকের সেবাশ্রয়ে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের  

রাজ্য স্বাস্থ্য

বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- ডায়মন্ড হারবার মডেলে আবারও ধাক্কা! সেবাশ্রয় প্রকল্পের দুর্নীতি সহ একাধিক অনিয়ম বেনিয়মের অভিযোগ তুলে এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর বিরুদ্ধে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস(ববি)। তিনি অভিযোগপত্রে দাবি করেছেন, হাতুড়ে ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের দিয়ে আধুনিক চিকিৎসা করানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার, জোর করে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য  শিবিরে নিয়ে এসে ভিড় বাড়ানোর মত গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তাঁর তোলা এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল নেতাদের কোনপ্রতিক্রিয়াপাওয়াযায়নি।
জানা গিয়েছে, অভিযোগপত্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও তাঁর ঘনিষ্ট আপ্তসহায়ক সুমিত রায়, সংশ্লিষ্ট এলাকার বিধায়ক, পঞ্চায়েত সদস্য এবং সেবা শিবিরে যুক্ত কয়েকজন চিকিৎসকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি, গোটা স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রকল্পে একাধিক আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছেলে খেলা হয়েছে।
এদিন বিজেপি নেতা  অভিজিৎ দাস (ববি) অভিযোগ করে বলেন, সেবাশ্রয়ের নামে ডায়মন্ড হারবার সাধারণ মানুষের কে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, স্বাস্থ্য শিবিরে এমন বহু ব্যক্তি চিকিৎসা করেছেন যাদের আধুনিক চিকিৎসা করার বৈধ কোন অনুমতি ছিল না। অভিযোগ অনুযায়ী হোমিওপ্যাথি ও অন্যান্য বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির চিকিৎসা করা আধুনিক চিকিৎসার প্রেসক্রিপশন লিখেছেন । এমন কি কয়েকজনের কোন বৈধ মেডিকেল রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ও ছিল না বলে অভিযোগ।
নিজের দাবির সমর্থনে একটি প্রেশক্রিশন সামনে এনেছেন। অভিজিৎ দাস তিনি দাবি করেন, ওই প্রেসক্রিপশনে রোগীর নাম ও বয়স থাকলেও রোগের কোন বিবরণ লেখা নেই। শুধু ‘রেফার টু হসপিটাল’ উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ও অনুপস্থিত। তাঁর দাবি এটি চিকিৎসা সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের স্পষ্ট প্রমাণ।
এদিন তিনি অভিযোগ করে বলেন, যে শিবিরে আল্ট্রাসোনগ্রাফি করার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। এছাড়াও সেবাশয়কে সফল দেখানোর উদ্দেশ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন ভাবে চাপ দিয়ে বা প্রোরচিত করে শিবিরে নিয়ে যাওয়া হতো বলে অভিযোগ করেছেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস। পাশাপাশি দাবি করেন, প্রকৃত রোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেখাতেই এই পদ্ধতি নেওয়া হয়েছিল। সেই সাথে আরো অভিযোগ শিবিরে বিতরণ করা ওষুধের মান  মেয়াদ এবং সংরক্ষণের নিয়ম প্রশ্ন তোলা হয়েছে অভিযোগ পত্রে। এদিন অভিজিৎ দাস দাবি করেন, পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত , সম্প্রতি জেসিবি দিয়ে মাটি ঘুরতেই বেরিয়ে এলো বিপুল পরিমাণ সেবাশ্রয়ের লোগো লাগানো ওষুধ। ঘটনাটি ঘটেছিল ডায়মন্ড হারবার সরিষার হিঞ্চাবেরিয়া গ্রামে ।মাটির নিচে ওষুধ উদ্ধারের  ঘটনার খবর চাউর হতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ উদ্ধার হওয়া ওষুধের বাজার মূল্য কয়েক কোটি টাকা।  সুযোগের মতো পাচার করার জন্য মাটির তলায় ঢুকিয়ে রাখা হয়েছিল। বিপুল পরিমাণ ওষুধ কেন মাটির নিচে পুতে রাখা হয়েছিল সেই নিয়েই শুরু হয় রাজনৈতিক জোর চর্চা।।
তবে বিজেপির তোলা, সমস্ত দুর্নীতির অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলছে তৃণমূল। তাদের দাবি, মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার কারণেই এইসব ওষুধ মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *