রাতে পালাতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু বারুইপুর কান্ডের ধৃত অভিযুক্ত প্রভাস মন্ডলের

রাজ্য

প্রতীকী ছবি—

বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- দক্ষিণ ২৪ পরগনা বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় নয়া মোড়। পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হল এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মন্ডলের। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুন নির্মাণ করা হচ্ছিল। আর সেই সময় বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় প্রভাস পালানোর চেষ্টা করলে তাঁকে আটটাতে গুলি চালায়।
পুলিশের দাবি অভিযুক্ত হঠাৎ পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে সতর্ক করা হলেও সে না থামায় বাধ্য হয়ে গুলি চালানো হয়।। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে দ্রুত বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।


বারুইপুরের সূর্যপুরে ১২ বছরের  এক নাবালিকাকে গণধর্ষণের পর খুনের ঘটনায় রাজ্য জুড়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। এই ঘটনা তদন্ত একাধিক অভিযুক্তকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়। প্রভাস মন্ডল  এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ছিল। তদন্তের স্বার্থে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য তাঁকে  ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে এই এনকাউন্টারের ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে  প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। পাশাপাশি গোটা ঘটনার ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে তদন্ত সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে অভিযুক্তের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে ।অতিরিক্ত পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বারুইপুর ও সংলগ্ন এলাকায় যাতে কোন ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।। যদিও পুলিশ এই বিবরণ যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনা তদন্ত এবং সরকারি ভাবে রিপোর্ট প্রকাশ করার পরই পুরো বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
প্রসঙ্গত রবিবার সকালে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় একটি পুকুর থেকেই নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। দোষীদের গ্রেপ্তার করে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি তুলে এলাকাবাসী। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতার হাতে আটক হন প্রভাস মন্ডল। পরে তাকে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে ।
স্থানীয় বাসিন্দাদেব অভিযোগ শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ হবার আগে ধৃতদের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল ওই নাবালিকাকে। এই অভিযোগের তদন্তে নেবে পুলিশের হাতে আসে এলাকার কিছু সিসিটিভি ফুটে। সেই সিটিটিভি ফুটেজে নাবালিকার সঙ্গে এক যুবককে দেখা গিয়েছিল।
তদন্তের পরে জানা যায় ওই যুবক ছিলেন প্রভাস মন্ডল,আর এর উপর ভিত্তি করে গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁকে। পুলিশের দাবি তদন্ত কোনরকম সহযোগিতা করছিল না প্রভাস মন্ডল। তদন্তকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ভুল ভাল দিচ্ছিলেন ।ফলে স্বাভাবিকভাবে প্রভাসের ভূমিকা ঘটনার সময় ঠিক কি হয়েছিল তা খতিয়ে দেখতেই ঘটনার পুনঃনির্মাণ করে পুলিশ। মঙ্গলবার আনুমানিক ১২টা ৪৫ নাগাদ প্রভাস  মন্ডলকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন অভিজ্ঞ তদন্তকারীরা।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *