নদিয়ার মায়াপুরে ইসকনের রথযাত্রা উৎসব

অন্যান্য রাজ্য

ফাইল চিত্র—

হিমাদ্রিশেখর মণ্ডল ,বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:-  শুধু পুরীতে নয়,  পশ্চিমবঙ্গের কোলকাতা ও শহরতলীর বেশকিছু জায়গায় রথযাত্রা পালন হয় মহাসমারোহে। এই তালিকায় মায়াপুর অন্যতম। মহা ধুমধাম করে এবার পালিত হবে মায়াপুর ইসকনের রথযাত্রা। সৌভ্রাতৃত্বের মিলনমেলায় পরিণত হবে ইসকন। অবশ্য মায়াপুর ইসকন মন্দিরে সারা বছর ধরেই দেশি-বিদেশি ভক্ত সমাগম হয়ে থাকে।
         মায়াপুর ইসকনের এই রথে এই স্থানের অন্য মাহাত্ম্য রয়েছে। ইসকন মায়াপুরের জনসংযোগ আধিকারিক রসিক গৌরাঙ্গ দাস জানান, ‘ইসকন মন্দির থেকে পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে রাজাপুর গ্রামে প্রায় ৫০০ বছরের পুরানো এক জগন্নাথ মন্দির আছে। বহুকাল পূর্বে জগদীশ গঙ্গোপাধ্যায় নামে প্রভু জগন্নাথ দেবের এক ভক্ত ছিলেন। প্রতিবছর তিনি ৯০০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে পুরীতে জগন্নাথ দর্শনে যেতেন। হঠাৎ এক দুর্ঘটনায় উনি অন্ধ হয়ে যান। তারপর থেকে পুরী গিয়ে জগন্নাথ দর্শন আর তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হয়নি। শোনা যায়, এরপর তাঁকে স্বপ্নে মন্দির প্রতিষ্ঠা করার আদেশ দেন জগন্নাথদেব। বলা হয়েছিল কোনো ভক্ত পুরী গিয়ে জগন্নাথ দর্শন করলে যে পুণ্য লাভ হবে, এখানে জগন্নাথ দর্শন করলেও একই রকম পুণ্য লাভ হবে। তারপরই ওই মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়।  এ সময় জগন্নাথদেব রথের চড়ে মায়াপুরে ইসকন মন্দিরে আসেন এবং সাত দিন থাকেন। উল্টো রথে আবার ওই রাজাপুরে জগন্নাথ মন্দিরে ফিরে যান।’
      এবছর ১৬ জুলাই রাজাপুর জগন্নাথ মন্দির থেকে দুপুর ৩ টেয় শুরু হবে রথযাত্রা। ৫ কিলোমিটার পথ  অতিক্রম করে রথ যাবে মায়াপুর ইসকনের চন্দ্রোদয় মন্দিরে। উল্টোরথ (পুন:যাত্রা) ২৪ শে জুলাই আবার রথ ফিরে যাবে রাজাপুরের জগন্নাথ মন্দিরে। ১৬ই জুলাই থেকে ২৪ শে জুলাই পর্যন্ত ইসকন মায়াপুরে অস্থায়ী গুন্ডিচা মন্দিরে মাসির বাড়িতে জগন্নাথ দেব থাকবেন। এবছর পঞ্চতত্ত্ব মন্দিরে অস্থায়ী গণ্ডিচা মন্দির স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে চলবে ৫৬ ভোগ, দীপ দান, জগন্নাথ অষ্টকম – স্তোত্রপাঠ, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, ভজন- কীর্তন, নাটক ও নৃত্যানুষ্ঠান। আর থাকবে সর্বসাধারণের জন্য প্রসাদ বিতরণ। ১৯ জুলাই সকাল ৮টায় আট বছরের কমবয়সী শিশুদের জন্য মায়াপুর চন্দ্রোদয় মন্দির প্রাঙ্গণে পরমেশ্বর ভগবানের প্রতি লাভার্থে এক ছোট্ট রথযাত্রার ব্যবস্থা থাকছে। ২০ শে জুলাই হেরা পঞ্চমী উৎসব পালিত হবে। পুরীর রথযাত্রার দিনেই পশ্চিমবঙ্গের রথযাত্রা পালিত হয়ে থাকে। জগন্নাথ! জগতের নাথ! জনগণের নাথ! সবার ভালোলাগা ও ভালোবাসার একমাত্র পাথেয়। রথযাত্রার রত্ন সিংহাসন থেকে নেমে আসেন জগন্নাথ দেব। কেননা তিনি যে ভক্তব্যৎসল। ভক্তের মনোবাঞ্ছা পূরণের জন্য দর্শন ও স্পর্শনের জন্য, সবার কল্যাণের জন্য তার এই পন্থার অবলম্বন। জাতি- ধর্ম- বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য তাঁর কাছে অবারিত দ্বার। তাই রথ যাত্রার দিনটির জন্য অধীর আগে অপেক্ষা করে থাকেন এই অঞ্চলের অধিবাসীরা। বাড়িতে বাড়িতে ভিড় উপচে পড়ে রথের দিনগুলিতে। সবাই চান রথের রশিতে একটু  টান দিতে, তাকে প্রণাম জানাতে এবং জগন্নাথ দেবের প্রসাদ পেতে। সবাইকে একসাথে বেঁধে দেয় রাজাপুর মায়াপুর ইসকন মন্দিরের রথযাত্রা।
      ইসকন মায়াপুরের জনসংযোগ আধিকারিক রসিক গৌরাঙ্গ দাস জানান ‘ প্রতিদিন প্রায় এক লক্ষ ভক্তের প্রসাদের ব্যবস্থা করতে পারে মায়াপুর ইসকন কর্তৃপক্ষ। এখানে সুলভ কিচেন আছে। উৎসবের দিন বিনামূল্যে প্রসাদ দেওয়া হয়। খিচুড়ি বিতরণ করা হয়।’
     মায়াপুরের অদূরে রাজাপুরে রয়েছে জগন্নাথ মন্দির। সেখানে তিনটি পৃথক রথে চড়ে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা আসেন চন্দ্রোদয় মন্দিরে। ফুলের মালায়, ঐতিহ্যবাহী  গহনায় সাজানো হয় মূর্তিগুলি। বড় শোভাযাত্রার মাধ্যমে রথ পৌঁছায় মূল মন্দিরে। ৮ থেকে ৮০ সবাই  সেই যাত্রায় অংশ নেন। যে সাত দিন জগন্নাথ দেব ইসকন মন্দিরে থাকেন তাঁর প্রতিদিন বিশেষ সন্ধ্যা আরতি হয়। নিত্য প্রভুর সেবায় ভোগ নিবেদন করা হয়। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *