৩ খুদেকে বাঁচিয়ে নদীতে তলিয়ে মৃত্যু হল কিশোর নাসিমে’র !শোকের ছায়া বজবজে

রাজ্য

প্রতীকী ছবি-

তোতন দাশ,বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:-  কে বলে দিন দিন মানুষের মনুষ্যত্ব বোধ, বিবেক ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে। না, এখনো মানবিকতা, সাহস আর মনুষ্যত্ব, বিবেক আর আত্মত্যাগ সমাজের এ বর্তমান, তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া গেল বজবজের এক ঘটনায় ।

 নদীর জলে স্নান করতে নেমে ছিল  ৯-১০ বছরের তিন বালক। আচমকাই ডুবে যেতে দেখেও ঘাটের আশেপাশে থাকা বেশ কিছু লোকজন থাকলেও কেউ তাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসতে আসেনি। তবে এই দৃশ্য দেখে নিজেকে চুপ রাকতে পারেনি বছর সতেরোর কিশোর নাসিম মল্লিক। প্রবল ঢেউ আর স্রোতমুখী জলে  ঝাঁপিয়ে পড়ে তলিয়ে যেতে বসা তিন বালকে উদ্ধার করে। পরে নিজেই নদীর স্রোতে তলিয়ে যায়। যদিও বেশ কয়েক ঘন্টা পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হলে, চিকিৎকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজের হুগলি নদীর অ্যালবিয়ন ঘাটে। মৃত কিশোরের নাম নাসিম মল্লিক (১৭)। তাঁর বাড়ি বজবজের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে যায় বজ বজ থানার পুলিশ। ডুবুরি নামিয়ে বেশ কয়েক ঘন্টা ধরে তল্লাশি চালানোর পর খুঁজে পায় নাসিমের নিথর দেহ।

 পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নাসিম মল্লিক বজবজের সারেঙ্গাবাদ স্কুলের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র। ইতিমধ্যে নাসিমের বাড়ির লোকজনদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার সকালে  স্কুলে যাচ্ছি বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল তবে স্কুলের বন্ধুরা জানায় সে স্কুলে যায়নি। তার পরিবর্তে সে ঘুরতে যায় বজবজের সেন্টার জুট মিল লাগোয়া অ্যালবিয়ন ঘাটে। তখনই সে দেখতে পায় তিন বালক জলের স্রোতে তলিয়ে যাচ্ছে।

তাঁর মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা নাসিমা বিবি।তিনি বলেন, “সকাল সাতটা নাগাদ স্কুলে যাচ্ছি বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল।আমি ভেবে ছিলাম ও স্কুলে গেছে কিন্তু সকাল ৯টা নাগাদ খবর পাই,অন্যদের বাঁচাতে গিয়ে আমার ছেলেটাই আর ফিরল না”।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, মাঝে মধ্যে স্কুলের ছোট ছেলেরা জেটিঘাটের কাছ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে স্নান করে।এদেরকে বারবার নিষেধ করলেও কারও কথা শোনে না।আজও ওই ভাবে নদীর জলে স্নানের সময় তিন বালক প্রবল স্রোতে তলিয়ে যেতে দেখে তাদেরকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসে নাসিম মল্লিক।একে একে ৩বালককে উদ্ধার করে নিজেই জলে তলিয়ে যায়।তাঁর মৃত্যুর খবরে শোকাহত তাঁর পরিবার, স্কুলের সহপাঠী,শিক্ষক সহ গোটা এলাকা।  

ADVT

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *