বেসরকারি হাসপালের উপর কড়া নজরদারি রাখতে এবার রাজ্য সরকারের নতুন রেগুলেটরি কমিশন গঠন

রাজ্য স্বাস্থ্য

বাংলারচাণক্যনিউজডেস্ক:- রাজ্যের মানুষ যাতে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পান। আর সেই কথা মাথায় রেখেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই রাজ্যে চালু হয়েছে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প। এই প্রকল্পে যারা সুযোগ পাবেন না তাদেরও চিকিৎসার পরিষেবার থেকে যাতে বঞ্চিত না হন তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা নিয়ে আসছে । রাজ্যের সব মানুষ যাতে চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন তার জন্যই রাজ্য সরকারের এমন উদ্যোগ।  এরপরেও বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে। তবে এবার রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতাল এবং ক্লিনিক্যাল গুলির পরিষেবা স্বচ্ছতা এবং নিয়ন্ত্রণ আরও উন্নত করতে পশ্চিমবঙ্গে ক্লিনিক্যাল  এসটাবলিশমেন্ট  বেসরকারি হাসপালের উপর কড়া নজরদারি রাখতে এবার রাজ্য সরকারের নতুন রেগুলেটরি কমিশন গঠনকমিশন পুনর্গঠন এর বিজ্ঞপ্তি জারি করল রাজ্য সরকার।
দেখা গেছে. সরকারি বীমা থাকলে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা অনেক সময় দিতে চান না। আবার জরুরী ভিত্তিতে আসা রোগীকে ফিরিয়ে দেওয়ার হয়। অনেক সময় বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে বলা হয় বেড নেই। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ ক্লিনিক্যাল  এসটাবলিশমেন্ট  আইনের ২০১৭ সালের ধারা ৩৬ অনুযায়ী রাজ্যপাল নতুন কমিশন গঠনের অনুমোদন দিয়েছেন। এই নির্দেশিকা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতাল গুলি কোনরকম পরিষেবা দিতে অস্বীকার এবং ভর্তির ক্ষেত্রে অভিযোগ এলে তারা রাজ্য সরকারের আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করতে পারবে।
জানা গেছে এই নবগঠিত কমিশনের চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কোলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু, ভাইস চেয়ারপার্সন করা হয়েছে আইএএস অফিসার মৌমিতা গোদারা বসুকে এই কমিশনের সদস্য হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক ড সুভাষচন্দ্র বিশ্বাস, অধ্যাপক ড সুশান্ত কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, ডা নারায়ণ বন্দোপাধ্যায়, ডা স্বরূপ প্রসাদ ঘোষ, ডা নারায়ণ চক্রবর্তী, ডা ধনপত রাম আগরওয়াল, ডিরেক্টর অব মেডিকেল এডুকেশন অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার গৌতম মোহন চক্রবর্তী, ডাক্তার মধুমিতা দুবে, ডা শ্যামাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে নতুন রেগুলারলি কমিশন পশ্চিমবঙ্গ ক্লিনিক্যাল ক্লিনিক্যাল  এসটাবলিশমেন্ট  আইন ২০১৭ সাল অনুযায়ী, তার উপর থাকা সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করবে এবং নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করবে। হাসপাতাল এবং ক্লিনিক বিষয়ক কোন অভিযোগের নিষ্পত্তি, পরিষেবার মান বজায় রাখা রোগীর অধিকার রক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিসেবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।

 ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন, রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে বেসরকারি স্বাস্থ্যপরিসেবার উপরে কড়া নজরদারি আর জোরদার যেমন হবে পাশাপাশি  রোগীর স্বার্থ রক্ষায় কমিশনের ভূমিকা আরও সক্রিয় হবে।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *