উপকূল বাঁচাতে অভিনব উদ্যোগ- ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে সাইকেল চালিয়ে সাগরের বিডিও দিলেন ‘স্বচ্ছ সাগর, সুরক্ষিত সাগর’-এর বার্তা

রাজ্য শিক্ষা

রমেশরায়(কাকদ্বীপ)বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- সমুদ্রসৈকত পরিচ্ছন্ন রাখা এবং উপকূলীয় পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার সুদৃঢ় বার্তা নিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার উপকূল অঞ্চলে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি—‘স্বচ্ছ সাগর, সুরক্ষিত সাগর’। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক এবং কেন্দ্রীয় ভূবিজ্ঞান মন্ত্রকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ অভিযান গত ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। পরিবেশ রক্ষা এবং প্লাস্টিকমুক্ত সৈকত গড়ার এই মহাযজ্ঞে স্থানীয় প্রশাসন, স্কুল-এর শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পুরো অনুষ্ঠানটিকে এক জনমুখী উৎসবে পরিণত করেছে। ​

ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, গত ১২ সেপ্টেম্বর দিঘায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই রাজ্যব্যাপী কর্মসূচির সূচনা হয়। এর পর কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে, রবিবার অর্থাৎ ১৩ সেপ্টেম্বর গঙ্গাসাগর, মন্দারমণি, তাজপুর ও দিঘার সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে একযোগে এক বর্ণাঢ্য সাইক্লোথনের আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচির মূল আকর্ষণ ছিল গঙ্গাসাগরের শ্রীধাম বাজার এলাকা থেকে বের হওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের একটি বিশেষ সাইকেল র‍্যালি। শ্রীধাম স্কুলের উৎসাহী ছাত্র-ছাত্রীরা হাতে প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন নিয়ে সাইকেল চালিয়ে সমগ্র এলাকায় সৈকত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার এবং পরিবেশ বাঁচানোর জোরালো বার্তা ছড়িয়ে দেয়। ​সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং অনুপ্রেরণাদায়ক মুহূর্তটি তৈরি হয় যখন এই ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিজেই সাইকেল নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন সাগর সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও) অনন্ত কুমার গোস্বামী।প্রশাসনিক কোনো দূরত্ব না রেখে বিডিও সাহেবের এই সরাসরি অংশগ্রহণ শুধু ছাত্র-ছাত্রীদেরই নয়, রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষকেও দারুণভাবে উৎসাহিত করে। প্রশাসন ও ছাত্রসমাজের এই মেলবন্ধন উপস্থিত সকলেরই নজর কেড়েছে। ​এই সপ্তাহব্যাপী উদ্যোগকে সফল করে তুলতে আগামী দিনগুলিতে একগুচ্ছ জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সমগ্র অঞ্চলে সাড়ম্বরে পালিত হবে ‘ফিট ইন্ডিয়া অভিযান’। এর পর ১৫ সেপ্টেম্বর আয়োজিত হবে একটি বিশেষ ম্যারাথন দৌড়। ১৬ সেপ্টেম্বর পালিত হবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ‘বিশ্ব ওজোন দিবস’। কর্মসূচির পরিধি আরও বিস্তৃত করে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর গঙ্গাসাগর ও বকখালির বিস্তীর্ণ উপকূলে এক বিরাট শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান এবং সুবিশাল মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে।কর্মসূচির অন্তিম পর্যায়ে, আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর এলাকার স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরিবেশ বিষয়ক এক মননশীল ‘ওশান অলিম্পিয়াড’ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। পরিশেষে, ১৯ সেপ্টেম্বর গঙ্গাসাগর এবং বকখালির দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত জুড়ে এক বিশাল মেগা পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মধ্য দিয়ে এই সপ্তাহব্যাপী জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির যবনিকা পতন ঘটবে।​পরিবেশবিদ ও প্রকৃতিপ্রেমী মহলের মতে, বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চলে মানবসৃষ্ট জঞ্জাল ও প্লাস্টিক দূষণের জেরে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য আজ মারাত্মক হুমকির মুখে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে এমন দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ। গঙ্গাসাগর ও বকখালির মতো সংবেদনশীল ট্যুরিজম জোনে এই অভিযান কেবল সৈকত পরিষ্কার রাখতেই সাহায্য করবে না, বরং পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও দায়িত্ববোধ তৈরি করবে।বিডিও অনন্ত কুমার গোস্বামীর মতো প্রশাসনিক কর্তাদের মাঠে নেমে নেতৃত্ব দেওয়ার এই দৃশ্য প্রমাণ করে যে, সদিচ্ছা থাকলে প্রশাসন ও জনতা একসঙ্গে হাত মিলিয়ে সুন্দর ও বাসযোগ্য উপকূল গড়ে তুলতে পারে। 

ADVT

ADVT

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *