কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানো ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’,পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের

রাজ্য

বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- রাজ্যের পালা বদলের পর কোন জায়গায় তোলাবাজির অভিযোগ আবার কোথাও দুর্নীতির অভিযোগে কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। কোথাও দেখা যাচ্ছে ধৃতকে কোমরে দড়ি পরিয়ে রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে  পুলিশ । সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ফলতা বিধানসভায় পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী  জাহাঙ্গীর খানের ছবি সামনে আসে। পরনে  গেঞ্জি আর হাফ প্যান্ট পরিয়ে কোমরে দড়ি বেঁধে  ফলতার রাস্তায় রাস্তায় ঘোরানো হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জাহাঙ্গীর খানের স্ত্রী রেজিনা বিবি একটি মামলা দায়ের করেন। আর তার ফলে শুক্রবার কোলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, “কোন অভিযুক্তের কোমরে দড়ি পরিয়ে ঘোরানো কখনোই আইনত সমর্থন যোগ্য নয়। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, কোন ব্যক্তির মানবাধিকার যাতে লঙ্ঘিত না হয়, সেটা খেয়াল রাখতে হবে”।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা ডায়মন্ড হারবার মহকুমার ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ফলতার পুনঃনির্বাচনের পর থেকেই তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে নেপাল সীমান্ত থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। জাহাঙ্গীর খানের বিরুদ্ধে কতগুলো মামলা রয়েছে তা জানতে চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তাঁর স্ত্রীর রেজিনা বিবি। সেই সাথে কোমরে দড়ি পরিয়ে ঘোরানোর বিষয়ক অভিযোগ করা হয়।
এদিন মামলার শুনানিতে বিচারপতি বলেন, “কোন অভিযুক্তকে কোমরে দড়ি পরিয়ে ঘোরানো কখনোই আইনত সমর্থনযোগ্য নয়”। সরকারি আইনজীবী তখন বলেন, কোমরে দড়ি পরিয়ে ঘোরানোর বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়েও অনেক কিছু করা যায়। পুলিশ থেকে রিপোর্ট নিয়ে আমি আমার বক্তব্য রাখব”। রাজ্যের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপ্রতি জানান, জাহাঙ্গীর খানের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয় এমন কোন পদক্ষেপ করা যাবে না। পাশাপাশি আদালতের আরও নির্দেশ,৭দিনের মধ্যে মামলাকারীর স্বামীর বিরুদ্ধে নতুন কোন এফআইআর দায়ের হয়েছে কিনা তার রিপোর্ট জমা দিতে হবে। ১লা জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানি।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *