মামাতো দাদার সঙ্গে কোলকাতা দেখতে গিয়ে তারাতলায় গোডাউনের ছাদ ধসে মৃত্যু সুন্দরবনের বাসন্তীর সাহিলের !এলাকায় শোকের ছায়া

রাজ্য

বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- সুন্দরবনের বাসন্তীর রামচন্দ্র খালি এলাকার ১৬ বছরের সাহিল সর্দার  কোলকাতা ঘুরে দেখতে মামাতো দাদার সঙ্গে গিয়েছিল ।যদিও কর্মসূত্রে দাদা মোস্তাকিন সহ চার জন সহকর্মী বুধবার তারাতলা গোডাউনের কাজ করছিল । আর সে সময়েই আচমকায় গোডাউনের ছাদ ধসে পড়ে চাপও পড়ে সাহিল সর্দার সহ একাধিক শ্রমিক ও অন্যান্যরা। বহুক্ষণ উদ্ধার কাজ চালানোর পর বিকেলের দিকে মোস্তাকিন সহ অন্যান্য গুরুতর আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে কোলকাতা এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে এই দুর্ঘটনায় সাহিলের মৃত্যু হয়। ইতিমধ্যে সে মৃত্যুর খবর দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীর রামচন্দ্রখালি বাড়িতে পৌঁছালে তাঁর পরিবার সহ এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।
তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউনের ছাদ ধসে মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে আহত ২০জন। তাদের চিকিৎসা চলছে। এখনো বেশ কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে থাকতে পারে বলে মনে করছেন উদ্ধারকারীর দলের সদস্যরা। ফলে স্বাভাবিকভাবে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহলমহল।এদিকে গতকাল দুপুর থেকে প্রবল বৃষ্টির জেরে উদ্ধার কার্যে সাময়িক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় উদ্ধারকারী দলের।পরে বৃষ্টি থেমে গেলে রাতে নাইট ভিসন ক্যামেরার মাধ্যমে জোর কদমে শুরু হয় উদ্ধারের কাজ।

প্রসঙ্গত,তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউনের ছাদ ধসে মৃত পরিবারদের প্রতি রাজ্যের উদ্যোগে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় বিধানসভায় সমগ্র দুর্ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ তুলে ধরেন তিনি ।মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেন। পাশাপাশি আহতদের দেওয়া হবে এক লক্ষ টাকা। বুধবার রাত ভোর উদ্ধার কার্য চালানোর পর বৃহস্পতিবার সকালে তিনজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউনের ছাদ ধসের ঘটনায় ওই গোডাউন মালিক শম্ভুনাথ বেহরা কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গেছে, বুধবার গভীর রাতে তারাতলার একটি আবাসন থেকে তাকে আটক করা হয়। পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তার বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের করেছে। রাতে গোডাউনের নির্মাণ ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৯ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালায় তারাতলা থানার পুলিশ। এরপরে শম্ভু সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার কমল সামন্ত, সুপারভাইজার সৈয়দ মোহাম্মদ গুলজার, গোডাউন শ্রমিকসহকারী মহম্মদ আতাউল এবং সুভাষ সরকার। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদ এর জন্য আরো ৪জনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবেলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো কয়েকজন আটকে থাকায় আশঙ্কা রয়েছে। উদ্ধার কাজে হাইড্রোলিক ক্রেন ব্যবহার করে ভেঙে পড়া কাঠামো গুলিকে সোজা করে রাখা হয়েছে। জানা গেছে, এখনো পর্যন্ত মোট ২৯ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯জনের মৃত্যু হয়েছে এবং কুড়ি জন আহত অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে মৃতের মধ্যে ৪জন নদীয়া এবং একজন উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ার বাসিন্দা।



  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *