‘নতুন শিক্ষকরা প্রত্যক্ষ রাজনীতি করতে পারবেন না’,নিয়োগে যুক্ত হল শর্ত—-মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্য শিক্ষা

বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- রাজ্যের নতুন চাকরি প্রার্থীদের জন্য বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার ক্যাবিনেট বৈঠকের পর একাধিক নতুন সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের বৈঠক করে জানান মুখ্যমন্ত্রী। গত কয়েকটি ক্যাবিনেট বৈঠক মিলিয়ে প্রায় ৬০ হাজার নতুন পথ তৈরির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আগেই এবার শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। নতুন নিয়মে আগামী দিনে স্কুল সার্ভিস কমিশনে মাধ্যমিক যে সমস্ত শিক্ষক নিয়োগ করা হবে তাঁরা আর সরাসরি প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। নবান্ন থেকে জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ।
এদিন নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান,’রাজ্যে কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকার অত্যন্ত তৎপর। আগে ক্যাবিনেট বৈঠকে যেখানে ৪৫ হাজার পদ তৈরি করা হয়েছিল। আজকের বৈঠকে আরও প্রায় ১ হাজার ২০০ নতুন পথ তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে গত কয়েকটি ক্যাবিনেট বৈঠক মিলে প্রায় ৬০ হাজার চাকরির পথ প্রশস্ত করেছে। এই রাজ্য সরকার। পাশাপাশি তিনি বলেন, ক্যাবিনেট মিটিং এর কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একটা হচ্ছে আমাদের বিভিন্ন দপ্তরের নিয়োগ। গত ক্যাবিনেটের ৪৫ হাজার পদ তৈরি করা হয়েছিল। আজকে আরবান ডেভলপমেন্ট হেলথ এন্ড ফ্যামিলি প্ল্যানিং -সহ মিলিয়ে ১১৯৯ নতুন পোস্ট তৈরি করা হয়েছে। এগুলি আমরা দ্রুত বিজ্ঞপ্তি পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ করব। মোট এখনও পর্যন্ত প্রায় কয়েকটা ক্যাবিনেট মিলিয়ে ৬০ হাজারের মতো নিয়োগ করেছি। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হবে’।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেন,দেশের অন্য কোন রাজ্যের শিক্ষকরা সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকেন না। বিহার বা উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলির উদাহরণ টেনে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য ‘এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষকরা ও আর প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন না। আগামী দিনে স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে যে সমস্ত শিক্ষক নিয়োগপত্র পাবেন। তাঁরা পঞ্চায়েত বা পুরসভা তো বটেই এমনকি বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী হতে বা প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে জড়াতে পারবেন না। আজকের পর থেকে যে শিক্ষক নিয়োগ হবে তাঁরা অন্যান্য রাজ্যের মতই প্রত্যক্ষ রাজনীতি করতে পারবেন না’।
এছাড়াও  এখন শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কতটা প্রযোজ্য হবে সেটা নিয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাবে জানান, ইতিমধ্যে চাকরি পেয়েছেন এবং নানান ক্ষেত্রে বা রাজনৈতিক পদে যুক্ত আছেন। যেমন যারা পঞ্চায়েত বা পুরসভার জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে না’। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘ যারা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছেন তারা যে স্বাধীনতা পেয়েছেন তাদের সেই অধিকার খর্ব করছি না। আজকের পর থেকে যা নিয়োগ হবে তারা প্রত্যক্ষ রাজনীতি করতে পারবেন না। এটা আমার স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করলাম। আমরা চাই পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষার মান বাড়ুুক ।৩৪ বছরে কমিউনিস্ট এবং ১৫ বছরের দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল কংগ্রেস, যাদের মাইন্ড সেট ছিল গ্রেটার বাংলাদেশ তৈরি করার। সেই জায়গা থেকে শিক্ষা ব্যবস্থাকে,শিক্ষা প্রাঙ্গণ, শিক্ষা মন্দিরকে,,শিক্ষক শব্দের যে মর্যাদা, সেটা ফিরিয়ে আনা এটি বড় উদ্যোগ’।

মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে যেমন  স্বাগত জানিয়েছেন তেমন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষজন সমালোচনাও করেছেন।এবিষয় বাংলার চাণক্য নিউজের পক্ষ থেকে কথা বলেছিলাম সুন্দরবন সহ দক্ষিণ২৪পরগণা জেলার বেশ কয়েক জন শিক্ষককের সঙ্গে।  তবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন,রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে পড়াশোনার সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক’ পদক্ষেপ। অন্যদিকে বেশ কিছু শিক্ষক রাজ্য সরকারের এই ধরনের পদক্ষেপ এর সমালোচনা করে বলছেন, শিক্ষকদের গণতান্ত্রিক অধিকারের উপরে সরাসরি ‘কুঠারাঘাত’ ।পাশাপাশি যুক্তি দিয়ে তাঁরা বলছেন, একজন শিক্ষক ও নাগরিক হিসেবে নিজস্ব অধিকার ও স্বাধীনতা রয়েছে। কাজের বাইরে তাঁরা কি করবেন বা কিসে যুক্ত হবেন তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয় বলে মনে করছেন। যদিও বেশির ভাগ  শিক্ষক বলছেন, একটি নির্দিষ্ট পেশার দূরত্ব বজায় রাখা উচিত। সে ক্ষেত্রে শিক্ষকদের মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে অনেকটাই সাহায্য করে।  শিক্ষকদের পেশা একটা নির্দিষ্ট দায়িত্বপূর্ণ পেশা। অন্য বিষয়ে যুক্ত থাকলে মূল পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে ব্যাঘাত ঘটতে পারে’।

আলোচনা,সমালোচনা, বিতর্ক,যুক্তি,পাল্টা যুক্তি চলতেই থাকবে ।তবে রাজ্য সরকারের এধরনের সিদ্ধান্তের ফলে আগামী দিনে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা বজায়  কতটা থাকে সেটাই এখন দেখার। 

ADVT

ADVT

ADVT

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *