
তোতন দাশ,বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন সাগরদ্বীপ।যোগাযোগের একমাত্র ভরসা মুড়িগঙ্গা নদীতে ভেসেল পরিষেবার উপর নির্ভর করতে হয় সাগরবাসীকে।এছাড়াও সারা বছর ধরে তীর্থভুমিতে পুণ্যার্থীদের আসা যাওয়া লেগেই থাকে।সে ক্ষেত্রেট্রেনে শিয়ালদহ থেকে কাকদ্বীপ আবার সেখান থেকে অটো টোটোতে চেপে পৌঁছাতে হয় লট ৮ ঘাটে ।অন্যদিকে বাসে বাবুঘাট-ধর্মতলা থেকে ১১৭নং জাতীয় সড়ক ধরেও আসা যায় কাকদ্বীপ লট৮ । এখানেই শেষ নয়,মুডিগঙ্গা নদী পার হয়ে সাগরের কচুবেড়িয়া থেকে পুনরায় গাড়িতে প্রায় ৩১কিমি পথ অতিক্রম করে তবেই কপিলমুনির আশ্রম ।দীর্ঘ সময় লেগে যায় গন্তব্যে পৌঁছাতে।সেই সঙ্গে জোয়ার-ভাঁটার উপর নির্ভর করতে হয় সাধারন মানুষ,অসুস্থ রোগী ,পুণ্যার্থীদের।তবে সেই সমস্যা দূর করতে এবার এগিয়ে এলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারি।তিনি রেল মন্ত্রীর কাছে আবেদন জানালেন গঙ্গাসাগরের কপিলমুনির আশ্রম পর্যন্ত রেল লাইন।
সোমবার সাঁতরাগাছি থেকে রাজস্থানের জয়পুর পর্যন্ত একটি নতুন ট্রেনের পরিষেবার সূচনা করলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। ভিডিও কলিং এর মাধ্যমে এই ট্রেনের উদ্বোধন করেন তিনি ।সেই সঙ্গে এই অনুষ্ঠানে যোগদেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন ট্রেন চালানোর জন্য রেলমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি তাঁর কাছে বড় আবেদন জানাতে গিয়ে তিনি বলেন।“ অশ্বিনী জি আপনি কাশ্মীরের শ্রীনগর থেকে রামেশ্বর পর্যন্ত অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছেন। বাংলার জন্য আপনাকে একটা জিনিস করতেই হবে। গঙ্গাসাগর যাওয়ার জন্য রেললাইন চাই। ট্যানেল করে নিয়ে যান বা ফোল্ডিং করে। আমাদের গঙ্গাসাগর যাওয়ার জন্য রেললাইন চাই। গঙ্গাসাগর আমাদের আস্থার জায়গা।মুড়িগঙ্গার উপর আমি ব্রিজ করতে শুরু করেছি। ২০২৯ পর্যন্ত ব্রিজের কাজ হয়ে যাবে। আপনি সার্ভে টিম পাঠিয়ে গঙ্গাসাগরকে রেল মানচিত্রে জুড়ে দিন”।
গত শনিবার কাকদ্বীপে সরকারের বিভিন্ন পরিষেবা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন ২০২৯ সালের ভিতরে মুড়ি গঙ্গায় প্রস্তাবিত সেতুর উদ্বোধন করা হবে। পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আগের সরকার এই সেতু তৈরির নামে মিথ্যা কথা বলেছিল। জমি অধিগ্রহণ বা ডিপিআর কিছুই করেনি। আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি ২০২৯ সালে সেতু উদ্বোধন করব।
মূলভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন সাগরদ্বীপকে জুড়তে, একদিকে মুড়ি গঙ্গায় সেতু অন্যদিকে নতুন রেললাইন ।এই খবরে উচ্ছসিত সাগরদ্বীপের মানুষজন।তাঁর বলছেন, ‘এর ফলে আগামীদিনে সাগরদ্বীপের অর্থনৈতিক চিত্র অনেকটাই বদলে যাবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে সাগরের উৎকৃষ্ট মানের পান,তরমুজ দ্রুত ভিন রাজ্যে সরাসরি পাঠানো যাবে ।সময় পরিবহন খরচ অনেকটাই কমবে।পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি রোগীর চিকিৎসার জন্য সরাসরি ডায়মন্ডহারবার,কোলকাতায় দ্রুত পৌঁছতে পারবে।

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

