
বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- রাজ্য সরকারের চিকিৎসা কেন্দ্র গুলিতে পরিষেবা পাওয়ার জন্য সকাল থেকেই দীর্ঘ ভিড় ।মুলত কোলকাতা লাগোয়া দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি সহ গোটা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসেন ।আর সেই চিকিৎসা কেন্দ্রে এবার গুরুত্বপূর্ণ এক ছবি সামনে এলো। কোলকাতার নীলরতন সরকার বা এন আর এস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালকে কেন্দ্র করে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কিছু ইন্টার্ন ডিউটি এড়াতে অভিনব একটি বাণিজ্যিক পথ বেছে নিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি নির্দিষ্ট whatsapp গ্রুপে অর্থের বিনিময়ে পালা বদলবার ডিউটি হস্তান্তরের কারবার চলছে এমনই অভিযোগ প্রকাশ আসতেই চিকিৎসাক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রকাশ্যে আসা সেই সমস্ত অনলাইনের কথোপকথনের স্ক্রিনশট ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। সংশ্লিষ্ট গ্রুপটিতে ২৮৬ জন ইন্টার্ন এর উপস্থিতি দেখা গিয়েছে। সেখানে আরও দেখা গেছে, রাতের নির্দিষ্ট দিনটির ডিউটিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে, তা অন্য কারোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা চলছে। আর তার বিনিময় নির্ধারিত অর্থ মূল্য চাওয়া হচ্ছে। কোথাও প্রতি ঘন্টা ডিউটির জন্য আড়াইশো টাকা তো কোথাও আবার ২০০ টাকা দরাদরির স্ক্রিন সট ভাইরাল হয়েছে। যদিও এই ভাইরাল হওয়া চ্যাটের সত্যতা যাচাই করেনি বাংলা চাণক্য নিউজ। তবে চিকিৎসা পরিষেবার মত একটি বড় সংবেদনশীল প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ জনমানষে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
এ ধরনের ঘটনার কথায় এবার সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলেছেন জুনিয়র ডক্টর্স ফোরামের প্রতিনিধি দেবাশীষ হালদার তিনি বলেন, ‘এই ধরনের বেআইনি ও অনৈতিক চর্চা আদতে মেনে নেওয়া যায় না। এর গভীরে গিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন’। চিকিৎসকদের একাংশের প্রশ্ন হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান থেকে শুরু করে সুপার কিংবা অধ্যক্ষ এতদিন ধরে এই অভ্যন্তরীণ অনিয়ম সম্পর্কে কি তারা অন্ধকারে ছিলেন। তাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে করা ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন তারা।
এদিকে এই বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে খতিয়ে দেখছে স্বাস্থ্য দপ্তর। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘দপ্তরের নিজস্ব নজরদারির সূত্র ধরেই এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রথম হাতে এসেছে। যে সমস্ত whatsapp গ্রুপের মাধ্যমে ডিউটি কেনাবেচার বিষয়টি চলছিল সেগুলির উপরে স্বাস্থ্য দপ্তর এবং তিনি নিজে করা নজর রেখেছেন। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট গ্রুপ গুলির এডমিনদেরও সতর্ক করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন ‘কাজের সময় এই ধরনের আর্থিক লেনদেন ভিত্তিক ডিউটি হস্তান্তর প্রক্রিয়া বিন্দুমাত্র বরদাস্ত করা হবে না’।
কোলকাতা সহ পার্শবর্তী জেলা গুলি থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার অসহায় মানুষ তাঁদের চিকিৎসা পরিষেবা পেতে আসেন একমাত্র্র ভরসা স্থল সরকারি হাসপাতালে। আর সেখানেই এধরনের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ কর্ম নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠছে ।

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

