
প্রতীকী ছবি—–
নিতাই মালাকার,বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:-দেশের অর্থনৈতিক শক্তি ও সামাজিক অগ্রগতির সঙ্গে নারী ও শিশুদের সুস্থতা ও অংশগ্রহণ ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। এই বিষয়টি মাথায় রেখে নারী ও কন্যাশিশুর সার্বিক উন্নয়নে ভারত সরকার শৈশব থেকে প্রাপ্তবয়স্ক জীবন পর্যন্ত জীবনচক্রভিত্তিক উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করেছে। পুষ্টি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও নিরাপত্তা—এই পাঁচটি ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
পুষ্টি ও স্বাস্থ্যকে শক্ত ভিত্তি হিসেবে ধরে শিশু, কিশোরী ও মায়েদের অপুষ্টি মোকাবিলায় একাধিক তথ্যভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খর্বতা, কম ওজন, রক্তাল্পতা ও কম জন্ম ওজন কমানোর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল স্তরে সম্প্রদায়ভিত্তিক পরিষেবা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই কর্মসূচিগুলি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এই লক্ষ্য পূরণে চালু হয়েছে ‘সক্ষম অঙ্গনওয়াড়ি ও পোষণ ২.০’। শূন্য থেকে ছয় বছর বয়সি শিশু, কিশোরী, গর্ভবতী নারী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সম্পূরক পুষ্টি, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রারম্ভিক শিশু যত্ন ও পুষ্টি সচেতনতা প্রদান করা হয়। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, টিকাকরণ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তাও দেওয়া হয়।
২০১৮ সালের ৮ মার্চ শুরু হওয়া পোষণ অভিযান অপুষ্টি হ্রাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গড়ে তোলার জন্য সরকারের একটি প্রধান কর্মসূচি। পাশাপাশি কিশোরী কন্যাদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির উন্নয়নের জন্য লৌহ-ফোলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুষ্টি শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিকে আনন্দময় শিক্ষাকেন্দ্রে রূপান্তর করতে চালু হয়েছে ‘পোষণ ভি পঢ়াই ভি’ উদ্যোগ খেলাধুলাভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে শিশুদের শেখার আগ্রহ বাড়ানো হচ্ছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮.৫৫ লক্ষের বেশি অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও ৪১ হাজারের বেশি প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।
বিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে পিএম পোষণ কর্মসূচির আওতায় প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর মধ্যাহ্নভোজ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর মাতৃ বন্দনা যোজনা গর্ভবতী নারী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের মাতৃত্বকালীন সহায়তা প্রদান করছে। নারীর ক্ষমতায়নে শিক্ষার ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, কস্তুরবা গান্ধী বালিকা বিদ্যালয় ও বিভিন্ন বৃত্তি কর্মসূচির মাধ্যমে কন্যাশিক্ষা সম্প্রসারণে জোর দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ থেকে ২০২২-২৩ সালের মধ্যে নারীদের পিএইচডি ভর্তির সংখ্যা ১৩৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালু হয়েছে মিশন শক্তি এবং কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির অভিযোগ জানানোর জন্য শি-বক্স পোর্টাল। পাশাপাশি মিশন বাৎসল্য শিশুদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের জন্য কাজ করছে।
সরকারের মতে, নারী ও কন্যাশিশুর স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নিরাপত্তায় বিনিয়োগ দেশের মানবসম্পদকে শক্তিশালী করে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পথকে আরও সুদৃঢ়

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

খবর এবং বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন:- ৯১৫৩০৪৩৩৮০
