
বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- রাজ্যের পুর প্রধান ও পঞ্চায়েত প্রধানদের হাত থেকে জন্ম এবং মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যু করার একছত্র ক্ষমতা কেড়ে নিল নবান্ন। বহু সার্টিফিকেট তৈরীর রমরমা এবং জালিয়াতি রুখতে পৌর এলাকায় বড়সড়ো প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহন করল রাজ্য। বৃহস্পতিবার রাজ্যের মুখ্য সচিব নবান্ন থেকে এক বিশেষ নির্দেশিকা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন এখন থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আর সরাসরি এই গুরুত্বপূর্ণ শংসাপত্র মঞ্জুর করতে পারবেন না। এই জালিয়াতি চক্রের শিকড় খুঁজতে ইতিমধ্যে রাজ্যজুড়ে পুলিশের অভিযান শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি এস আই আর প্রক্রিয়া চলার সময় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য জাল বার্থ এবং ডেথ সার্টিফিকেট এর খোঁজ মিলেছে। স্কুল সার্টিফিকেট থেকে শুরু করে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পেতে অবাধ ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ। এদিন মুখ্য সচিব স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ইচ্ছাকৃত ভাবে এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তবে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে প্রশাসন জানিয়েছেন, এই যাচাই করনের মূল লক্ষ্য হলো সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। আর এই সমস্ত নথি খতিয়ে দেখার কাজ করবেন শুধুমাত্র সরকারি আধিকারিকরাই। এর সঙ্গে কোনো চুক্তিভিত্তিক কর্মী যুক্ত থাকবে না।
নির্দেশিকা হাতে পাওয়ার পরই দক্ষিণ ২৪ পরগনা ডায়মন্ড হারবার পৌরসভা সহ পুরুলিয়া বাঁকুড়া ঝাড়গ্রাম এবং কোলকাতা পুর এলাকার রেজিস্টার যাচাই এর কাজ শুরু হয়েছে। প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী এবার থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা চালানোর হবে। যাদের কাছে বৈধ শংসাপত্র নেই তাদের বিশেষ শুনানির মাধ্যমে যাচাই করা হবে। পাশাপাশি ভুয়া এবং বেআইনি সার্টিফিকেটগুলি তালিকা তৈরি করে তা বাতিল করা হবে। এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে খোঁজখবর নেওয়া হবে। অবৈধ উপায়ে তৈরি এই নথিগুলির মাধ্যমে কোন বিদেশি নাগরিক যাতে এ রাজ্যে অনৈতিকভাবে থাকতে না পারে সে বিষয়ে প্রশাসন আরো কঠোর পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছে।






