ভুয়ো ডাক্তার ধরতে ‘KYD’অভিযান,রাজ্যে সব চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশান যাচাই করবে স্বাস্থ্য দপ্তর

রাজ্য স্বাস্থ্য

বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- রাজ্যে একের পর এক বিক্ষিপ্তভাবে ভুয়ো চিকিৎসকের হদিস মেলার পর জাল ডিগ্রী সনাক্ত করতে এবার পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দপ্তর নিল এক বড় পদক্ষেপ। যার নাম দেওয়া হয়েছে। কে ওয়াই ডি বা ‘know your doctor’।
প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার চিকিৎসকের নথি ধরে ধরে এই পুনরায় যাচাই প্রক্রিয়ার নাম দেওয়া হয়েছে কেওয়াইডি বা ‘নো ইওর ডক্টর’। শুক্রবার রাজ্য স্বাস্থ্য ভবনে এই ঘোষণা করেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। পাশাপাশি তিনি আশ্বস্ত করেছেন এই প্রক্রিয়ায় কোন চিকিৎসককে অযথা হয়রানি করা হবে না।
একের পর এক ভুয়ো ডাক্তার ধরা পড়ার  বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসছিল। তাই বড়সড় পদক্ষেপ নিয়ে পুরো বিষয়টিকে আটকানোর চেষ্টা করেছে সরকার। ইতিমধ্যে রাজ্যের একাধিক ভুয়ো ডাক্তারদের সন্ধান মিলেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ভুয়ো ডাক্তারি ডিগ্রী সংক্রান্ত অভিযোগে রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিলের সভাপতি সহ-সভাপতি প্রাক্তন রেজিস্টার্ড সদস্য সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিধান নগর কমিশনারের অভিযোগ দায়ের হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। শুরু হয়েছে নানা বিতর্ক। এরই মধ্যে কাউন্সিল সমগ্র  বিষয়টি নথিভুক্ত ব্যবস্থাকে যাচাইয়ের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জানা গেছে, রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর ও রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিলের বৈঠকে ঠিক হয়েছে ১৯৯৬ এখন পর্যন্ত নথিভুক্ত প্রায় এক লক্ষ দশ হাজার মডার্ন মেডিসিন বা অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসকের শংসাপত্র খতিয়ে দেখা হবে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক যে বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক ডিগ্রি কিংবা স্নাতকোত্তর অথবা পোস্ট ডক্টরাল ডিগ্রী পেয়েছেন ডাক্তারির, এবার সেইসব প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি ও প্রদত্ত শংসাপত্র সত্যতা নতুন করে যাচাই করা হবে। এই প্রক্রিয়া দুই ভাগে চলবে প্রথমত চিকিৎসকরা কাউন্সিলের কাছে হাজির হয়ে প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে পারবেন দ্বিতীয়ত বয়স, অসুস্থতা কিংবা দূরত্বের কারণে যাদের পক্ষে আসা সম্ভব নয় তাদের ক্ষেত্রে ভিডিও কনফারেন্স এর ব্যবস্থা থাকবে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে  এই কাজে বেসরকারি সংস্থার ও সাহায্য নেবে সরকার। সেই সঙ্গে কাউন্সিলের তালিকা থেকে মৃত চিকিৎসক বিদেশে চলে যাওয়া চিকিৎসক এবং দেশে থাকলেও যারা আর চিকিৎসা পেশার সঙ্গে যুক্ত নন তাদের নাম যাচাই পর্বের পরে প্রয়োজনে বাদ দেওয়া হবে।

সেই সঙ্গে  চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন শংসাপত্রের  ৫ বছরের মেয়াদ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় সংবাদ মাধ্যমকে জানান, শংসাপত্রের মেয়াদ সংক্রান্ত  ওই শর্তের  আইনি ভিত্তি স্পষ্ট নয়। নতুন নির্দেশিকা জারি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমানে নথিভূক্ত সব চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশনই বৈধ থাকবে’। পাশাপাশি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভিন রাজ্যের মেডিকেল কাউন্সিলে যাবেন পশ্চিমবঙ্গ মেডিকেল কাউন্সিলের আধিকারিকরা। তৈরি হচ্ছে আলাদা আলাদা টিম। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক আদৌ সেখান থেকে শংসাপত্র পেয়েছে কিনা তা যাচাই করবেন আধিকারিকরা’।  

রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রের খবর,দীপাবলি, ছট পুজোর শেষ হলেই নোটিফিকেশন জারি করবে স্বাস্থ্য দপ্তর। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘ছুটির মরশুম শুরু হয়েছে। ভাইফোঁটা, ছট পুজো, কালীপুজো শেষ হলেই বিজ্ঞপ্তি জারি হবে। ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিলের কাছে চলে গিয়েছে নির্দেশ’।  

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *