
তপন কুমার দাস,বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- সাইকেল সারাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে উধাও হয়ে যান বাড়ির বড় ছেলে ।পরিবারের লোকজন থানায় নিখোঁজ ডাইরিও করেন। বহু খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে একসময় সমস্ত আশা ছেড়ে দিয়েছিল পরিবার।শেষমেশ পুলিশ এবং হ্যামরেডিও’র সহযোগিতায় বকখালি থেকে একবছর পর বাড়ি ফিরছে বিহারের রামেশ্বর রায়।
সম্প্রতি বকখালির সমুদ্র সৈকত ডিউটিরত এক সিভিল ডিফেন্স কর্মী অনুপ শাসমলের নজরে আসে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি। তিনি তারঁ সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করতেই তাকে দেখেই দৌড়ে পালিয়ে যায় ওই ব্যাক্তি। তবে হাল ছাড়েননি ওই সিভিল ডিফেন্স কর্মী। পরে দুপুরের খাবার নিয়ে ওই ব্যাক্তির কাছে যেতেই বসে খাবার খেতে খেতে কিছুকথা বলেন তা অসংলগ্ন ভাবে। পরিচয় জানার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও হ্যাম রেডিও-র ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাবের সম্পাদক অম্বরিশ নাগ-বিশ্বাস কে বিষয়টি জানান। আর তারপরই ঘটে মুশকিল আসান,। হ্যাম রেডিওর মাধ্যমেই বিহারের মুজাফফরপুর জেলার কাটি থানার অন্তর্গত রক্সা গ্রামে যোগাযোগ হয় ওই ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে।হ্যাম রেডিও ক্লাবের সদস্যরা তাঁর ছোট ভাই অখিলেশের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারে, এই ব্যক্তির নাম রামেশ্বর রায় (55), বাবার নাম ম্যানেজার রায় (মৃত), চার ভাইয়ের মধ্যে বড় রামেশ্বর রায়, বিয়ের পর স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে যান।সমস্ত তথ্য জানার পরই ,ভিডিও কলের মাধ্যমে কথা বলানো হয় এবংপরস্পরকে চিনতেও পারেন।
রায় পরিবার সূত্রে আরও জানা গেছে, গত এক বছর আগে সাইকেল সারানোর জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন দাদা তারপর আর ফেরেননি। পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করেছেন পাশাপাশি স্থানীয় থানায় মিসিং ডায়েরিও করেছেন। কোনও সুরাহা হয়নি।সব আশা ছেড়ে দিয়েছিল রায় পরিবার। অবশেষে হ্যাম রেডিও-র সদস্যদের মাধ্যমেই খবর পেয়েই বুধবার দাদাকে নিতে বকখালিতে আসেন ভাই।বহু বছরপর বাড়ির অভিভাবক বড় দাদাকে দেখেই ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরেন ছোট ভাই।দাদা ভাইয়ে এই অপূর্ব মিলন দৃশ্য উৎসাহী স্থানীয় মানুষজন মোবাইলের ক্যামেরায় বন্দি করেন।এদিন রাতে দাদাকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আগে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, সুন্দরবন জেলাপুলিশ, এসডিপিও সাগর, ফেজারগঞ্জ, কোস্টাল থানার ওসি, হ্যাম রেডিও এবং সিভিল ডিফেন্স কর্মী অনুপ শাসমলকে।

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

খবর এবং বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন:- ৯১৫৩০৪৩৩৮০
