
বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- ভুয়ো চিকিৎসক ! ভুয়ো ডিগ্রী ব্যবহার করে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ বা অনকোলজিস্ট হিসেবে নিজেকে দাবি করে এলাকায় প্র্যাকটিসের অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা সোনারপুর এলাকার ঘাসিয়ারার একটি বাড়ি থেকে রোগী সেজে এক পুলিশ আধিকারিক হানা দিতেই একেবারে হাতে নাতে ধরা পড়লো ভুয়ো চিকিৎসক। ধৃত ওই চিকিৎসকের নাম বিশ্বরূপ আচার্য।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত বিশ্বরূপে শুধু সোনারপুর নয়, তাঁর জাল বিস্তার করেছিল জেলার একাধিক জায়গায়। তাঁর মোট ৮টি চেম্বার ছিল বলে জানতে পেরেছেন অভিজ্ঞ তদন্তকারীরা। নিজেকে নামী ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দিয়ে রোগী পিছু ৮০০ টাকা করে ভিজিট নিতেন তিনি বলে অভিযোগ। কিছুদিন আগেই সোনারপুরের ঘাসিয়ারা এলাকায় একটি নতুন বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেখানে চেম্বার করেছেন বিশ্বরূপ আচার্য। ব্যবসার রমরমা কারবার, তাঁর প্রেসক্রিপশন প্যাড এ এম এ বি এস ডিগ্রির পাশাপাশি এফআরসিএস এর মত বিদেশী ডিগ্রী ও বড় বড় করে প্রিন্ট করা ছিল। তবে তার চলাফেরা কথাবার্তায় কিছুটা সন্দেহ হওয়ায় নতুন বাড়ি-মালিক সরাসরি সোনারপুর থানায় গিয়ে বিশ্বরূপ আচার্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। আর অভিযোগ পেয়ে পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে সোনারপুর থানার অভিজ্ঞ তদন্তকারীরা। সোমবার গভীর রাতে রোগীর ছদ্মবেশে এক পুলিশকর্মী সোজা তাঁর বাড়িতে হাজির হন। বাইরে আরো পুলিশ ঘিরে ছিল। তাঁর চেম্বারে ঢোকার পরই চিকিৎসা সংক্রান্ত কথাবার্তা বলতেই। অভিজ্ঞ তদন্তকারীদের অসুবিধা হয়নি। যে চিকিৎসা বিষয়ে তাঁর ন্যূনতম জ্ঞান টুকুও নেই। আর তারপরেই হাতেনাতে পাকড়াও করে রাতেই নিয়ে যাওয়া হয় সোনারপুর থানায়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে । বিশ্বরূপ আচার্যের যে সমস্ত ভুয়ো ডিগ্রী ও প্রেসক্রিপশন প্যাড যোগাড় করেছিলেন তা ঠিক কোথা থেকে এসেছে। কে বা কারা তাঁকে পেছনে আছে। কতদিন ধরে চলছে এই ব্যবসা চলছে।
আজ ধৃত বিশ্বরূপ আচার্যকে বারুইপুর আদালতে পেশ করে ভুয়ো ডিগ্রির উৎস এবং জালিয়াতিচক্রের মূল উৎসের সন্ধান করতে ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। বিভিন্ন মহল থেকে ইতিমধ্য প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কিভাবে বছরের পর বছর সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে এই সমস্ত ভুয়ো চিকিৎসকরা। কেন স্বাস্থ্যদপ্তরের কড়া নজরদারি নেই।

ADVT




