
বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউনের ছাদ ধসে মৃত পরিবারদের প্রতি রাজ্যের উদ্যোগে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় বিধানসভায় সমগ্র দুর্ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ তুলে ধরেন তিনি ।মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেন। পাশাপাশি আহতদের দেওয়া হবে এক লক্ষ টাকা। বুধবার রাত ভোর উদ্ধার কার্য চালানোর পর বৃহস্পতিবার সকালে তিনজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউনের ছাদ ধসের ঘটনায় ওই গোডাউন মালিক শম্ভুনাথ বেহরা কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গেছে, বুধবার গভীর রাতে তারাতলার একটি আবাসন থেকে তাকে আটক করা হয়। পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তার বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের করেছে। রাতে গোডাউনের নির্মাণ ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৯ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালায় তারাতলা থানার পুলিশ। এরপরে শম্ভু সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার কমল সামন্ত, সুপারভাইজার সৈয়দ মোহাম্মদ গুলজার, গোডাউন শ্রমিকসহকারী মহম্মদ আতাউল এবং সুভাষ সরকার। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদ এর জন্য আরো ৪জনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবেলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো কয়েকজন আটকে থাকায় আশঙ্কা রয়েছে। উদ্ধার কাজে হাইড্রোলিক ক্রেন ব্যবহার করে ভেঙে পড়া কাঠামো গুলিকে সোজা করে রাখা হয়েছে। জানা গেছে, এখনো পর্যন্ত মোট ২৯ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯জনের মৃত্যু হয়েছে এবং কুড়ি জন আহত অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে মৃতের মধ্যে ৪জন নদীয়া এবং একজন উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ার বাসিন্দা।
প্রসঙ্গত বুধবার দুপুর ১২টা ৭ মিনিট নাগাদ তারাতলার নির্মীয়মাণ গোডাউনের ছাদ আচমকাই ভেঙে পড়ে। লোহার বিম কংক্রিটের স্তূপের নিচে চাপা পরেন বহু শ্রমিক। পুলিশ, দমকল এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার কাজ চালায়। পরে রাজ্য সরকারের অনুরোধে ভারতীয় সেনা এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী উদ্ধারকাজে হাত লাগায়। কোলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গোডাউন তৈরির জন্য জমি বন্দর কর্তৃপক্ষের । ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ‘বেহরা ব্রাদার্স’ নামে একটি সংস্থা ৩০ বছরের জন্য জমি লিজ দেওয়া হয়েছিল। মূলত ওই গোডাউনে চা পাতা রাখা ও প্যাকেজিংয়ের কাজ হতো। ওই সংস্থার অন্যতম মালিক শম্ভুনাথ বেহরাই গুদামের নির্মাণ কাজের দায়িত্বে ছিলেন।






