
বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- বারইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকা ধর্ষণ- খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও উস্কানি’ এর অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার রাতে বারুইপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করল বিজেপি ।
বারুইপুর ৪নং মন্ডলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের নাম রয়েছে বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী ,লাহেক আলি ,মোনালিসা সিনহা সহ মোট চারজনের।
বিজেপির অভিযোগ বারুইপুরে সূর্যপুরের ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়া ও জনসমক্ষে প্ররোচনামূলক মন্তব্য করা হয়েছে। মিথ্যে খবর প্রচার করে এলাকায় দাঙ্গা লাগানো চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে বিজেপি নেতৃত্ব অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য গত ৪ঠা জুলাই বারুইপুরের সূর্যপুর থেকে ১২ বছর বয়সী এক নামালিকা নিখোঁজ হয়। পরের দিন পুকুর থেকে তা দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনা ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত,বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ- খুনের ঘটনা নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। ঘটনার পর থেকেই তদন্তের শুরু হয়েছে। রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবিতে কার্যত সরব রাজ্যের বিভিন্ন মহল। আর এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেই মঙ্গলবার বারুইপুর পুলিশ সুপারের দপ্তরের আসেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারাই এই পরিদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রশাসনিক মহল।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারুইপুরের এসপি অফিসে পৌঁছে, জেলার শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন। বৈঠকে বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখনো পর্যন্ত তদন্তে কি কি অগ্রগতি হয়েছে। এছাড়াও কতজন গ্রেফতার করা হয়েছে। ফরেন্সিক রিপোর্টের বর্তমান অবস্থা ।প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ প্রমাণ সংগ্রহের কাজ কতদূর এগিয়েছে। এবং তদন্তের পরবর্তী পর্যায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তদন্তে কোন ধরনের গাফিলতি বা বিলম্ব হয়েছে কিনা সে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা বারুইপুরে এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন,ডিজিপিকে ৭২ ঘণ্টার সময় দিয়েছি। তারপরেই কড়া ব্যবস্থা নেব। কাউকে ছাড়া হবে না। দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। আউটপোস্ট চালু করব। এক সপ্তাহের মধ্যে আবার আসবো। সরকার যা করেছে তা দেখতে পাবেন। যারা পুলিশের গাড়ি ভেঙেছে, রেললাইন উপড়েছে তাদের ছাড় নয়। এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে। তার ব্যবস্থা করব। যারা ভোটে হেরেছে, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। আমি ক্ষমতায় এসেই আরজিকর কাণ্ডের ৩ আইপিএসকে সাসপেন্ড করেছি। বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবারের ১০-১২ জনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা সরকারের পদক্ষেপে সন্তুষ্ট। এই ঘটনার পর যে উস্কানি দেওয়া হয়েছে, তাদের ২০০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, তিনজন পুলিশ কর্মী হাসপাতালে ভর্তি। তাঁদের আমি দেখতে যাচ্ছি”।






