একদিন দলবেঁধে কজনে মিলে যাই ছুটে আনন্দে হারিয়ে।।হিমাদ্রি মিশনের উদ্যোগে সন্দেশখালিতে “শিশুদের চড়ুইভাতি”

ভ্রমণ রাজ্য

শমীতরফদার, বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:-  : ‘চড়ুইভাতি’ শব্দটা এখন আর শোনা যায় না। অথচ একটা সময় ছিল যখন শীতকাল এলেই শীতের রোদ গায়ে মেখে শিশুরা মেতে উঠতো চড়ুইভাতির অনাবিল আনন্দে। এখন মানুষ আধুনিক হয়েছে। তাই শীতকালে চড়ুইভাতির পরিবর্তে পিকনিক করে। শিশুদের সেই পুরোনো দিনের স্মৃতি ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগ নিল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হিমাদ্রি মিশন। ৩১শে জানুয়ারি শনিবার প্রত্যন্ত সুন্দরবন অঞ্চলের সন্দেশখালি থানার অন্তর্গত দুর্গামণ্ডপ হিমাদ্রি মিশনে তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের শিশুদের নিয়ে চড়ুইভাতির আয়োজন করে‌। এই চড়ুইভাতিতে শতাধিক শিশু অংশগ্রহণ করে।
      চড়ুইভাতিতে শুধু পেটপুরে খাওয়া-দাওয়া নয়, এই উপলক্ষে হিমাদ্রি মিশনের মাঠে শিশুদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শীতের রোদ গায়ে মেখে খেলাধুলায় মেতে ওঠে শিশুরা। খেলায় প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এছাড়াও এদিন শিশুদের হাতে বই,খাতা, কলম তুলে দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন যোগা বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট সমাজসেবী মধুমিতা বোধক, বিশেষ অতিথির আসন অলংকৃত করেন বিশিষ্ট সমাজসেবী কৃতি চ্যাটার্জি।
      তবে এদিন শিশু-সহ তার অভিভাবকদের যোগ, ধ্যান, প্রাণায়ামের মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক উন্নয়ন এবং গীতা চর্চার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক চেতনার উন্মেষ ঘটান যোগা বিশেষজ্ঞ বিশিষ্ট সমাজসেবী মধুমিতা বোধক। যা উপস্থিত সকলের ভীষণ ভালো লেগেছে। তারা প্রতি মাসে একবার করে হিমাদ্রি মিশনে এই যোগা শেখানোর দাবি তোলেন।


      হিমাদ্রি মিশনের উদ্যোগে এবং যোগা বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট সমাজসেবী মধুমিতা বোধক ও বিশিষ্ট সমাজসেবী কৃতি চ্যাটার্জির আর্থিক সহায়তায় শিশুদের চড়ুইভাতি অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও খেলার প্রাইজ, বই, খাতা, পেন দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাঁরা।
       হিমাদ্রি মিশনের সাংস্কৃতিক সম্পাদক রজত কুমার মণ্ডল (রাজু) বলেন, ‘শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই তাদের প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠতে সাহায্য করা আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব।  আজ শিশুদের চড়ুইভাতি উপলক্ষে শিশুদের মুখে আমরা হাসি ফোটাতে পেরে আমরাও ভীষণ আনন্দ পেয়েছি।’
    যোগা বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট সমাজসেবী মধুমিতা বোধক বলেন, “আমরা হাওড়া থেকে এই প্রথমবার সন্দেশখালি এলাকায় এসেছি। এখানে এসে সারাদিন ধরে অসহায় শিশুদের সঙ্গে কাটিয়েছি। শিশুদের চড়ুইভাতি উপলক্ষে এইসব অসহায় শিশুদের মুখে যে অনাবিল আনন্দ দেখেছি তা দেখে আমাদের মনটা ভরে গেছে। সুযোগ পেলে আমরা আবারও আসবো। হিমাদ্রি মিশনের কর্মকর্তা-সহ সকল সদস্য ও সদস্যাদের ধন্যবাদ জানাই এই ধরনের একটি উদ্যোগ নেওয়ার জন্য।”
      বিশিষ্ট সমাজসেবী কৃতি চ্যাটার্জি বলেন, “এই প্রত্যন্ত সুন্দরবন এলাকায় এসে একটা দিন শিশুদের সঙ্গে কাটাতে পেরে আমাদের ভীষণ ভালো লাগছে। এইসব শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে হিমাদ্রি মিশন কিছু করলে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে আমরা প্রস্তুত আছি।”
     অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন হিমাদ্রি মিশনের সম্পাদক সাংবাদিক হিমাদ্রিশেখর মণ্ডল। তিনি এই অনুষ্ঠানে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিমাদ্রি মিশনের স্বাস্থ্য সম্পাদক কমল সরদার, ক্রীড়া সম্পাদক নিমাই মাহাতো, শিক্ষা সম্পাদক সরস্বতী মণ্ডল, সদস্য ফণীন্দ্রনাথ গাইন, ভানু সরদার প্রমুখ।

 

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

খবর এবং বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন:- ৯১৫৩০৪৩৩৮০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *