ফলতা অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যেই রথ যাত্রার স্বাদ খুদে পড়ুয়াদের ! সামিল শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে অভিভাবকরাও

রাজ্য শিক্ষা

তোতন দাশ,বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক;- বিদ্যালয়ের মধ্যেই রথ যাত্রার স্বাদ খুদে পড়ুয়াদের। আজ দেশ জুড়ে পালিত হচ্ছে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা। তবে রথের আনন্দ পড়ুয়াদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে অভিনব উদ্যোগ নিল ফলতা অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়।নিয়ম মেনে রথের দিন ৫৬ ভোগ দিয়ে জগন্নাথ দেব কে নিবেদন করে, রীতি মেনে পুজো করেই রথে রশিতে টান দিলেন খুদে পড়ুয়া থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকারা,অভিভাবকরাও। আর এতেই খুশি খুদে পড়ুয়ারা।

দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় উড়িষ্যার পুরীতে। এরপর পশ্চিমবঙ্গের হুগলির মাহেশের রথ,পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল রাজবাড়ির আড়াইশো বছরের রথ সহ জেলায় জেলায় অনুষ্ঠিত হয় রথযাত্রা।কোলকাতায় ইসকনের রথযাত্রার সূচনা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।  

প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও দক্ষিণ২৪পরগণার ডায়মণ্ডহারবার মহকুমার ফলতা অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয় সাড়ম্বরে পালিত হল রথযাত্রা উৎসব। এদিন  জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষে ছাত্র-ছাত্রীরা এবং অভিভাবক অভিভাবিকারা নিজেদেরকে সুসজ্জিত করে ভোর সকালে  বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়। পরে  জগন্নাথ দেবকে ৫৬ ভোগ  প্রসাদ দিয়ে  বিশেষ পূজা অর্চনার ব্যবস্থা করা হয়। পূজার শেষে ছাত্রছাত্রীরা রথের রশি টেনে নিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গন থেকে প্রধান রাস্তা পর্যন্ত যায় । সেখানে  জগন্নাথ দেবের প্রসাদ হিসাবে খিচুড়ি ভোগ বিতরণ করা হয় পথ চলতি সমস্ত মানুষজনকে।আর এই উৎসব মুখর পরিবেশে খুদে পড়ুয়াদের অনাবিল আনন্দ উপভোগ করতে দেখে খুশি স্থানীয় বাসিন্দা থেকে অভিভাবক অভিভাবিকারাও।

 এই অভিনব উদ্যোগ প্রসঙ্গে ফলতা অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক  তিলক নস্কর  বলেন- “আমাদের  বিদ্যালয়ে যে সমস্ত ছাত্রছাত্রীরা পড়াশুনা করে তাদের মধ্যে অনেকেই আছে নিম্ন মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত পরিবারের থেকে আসা,। যাদের বাবা-মায়ের পক্ষে সম্ভব হয় না এই রথযাত্রার  উৎসবে নিজেদের সাথে নিজেদের বাচ্চাদেরকে সামিল করা। তাই দেখা যায় অনেক বাচ্চারাই এই রথযাত্রার আনন্দ উৎসব থেকে বঞ্চিত রয়ে যায়। পরবর্তীকালে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে যখন বন্ধু-বান্ধবেরা নিজেদের মধ্যে গল্প করে যে তারা রথযাত্রার মেলা দেখতে গিয়েছিল, সেখানে বিভিন্ন ধরনের খাবার খেয়েছে, খেলনা কিনেছে ,তখন অন্যান্য ছাত্রছাত্রীরা যারা মেলায় যেতে পারেনি  তারা অত্যন্ত দুঃখিত হয়। তারা আমার কাছে এসে জানায় যে স্যার আমরা রথের মেলায় যেতে পারিনি। আমাদের বাবা মায়েরা আমাদেরকে নিয়ে যায়নি। সেই চিন্তা ভাবনা থেকেই বিদ্যালয়ে শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার আয়োজন। সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীরা একসাথে যখন এই আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে তখন মনে হয় আমাদের এই উদ্যোগ সফল।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *