
বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- কখনো নদী বাঁধ ভেঙে চাষের জমিতে ঢুকে পড়ছে নোনা জল । আবার কখনো বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ে বাড়িঘর তছনছ হয়ে যাচ্ছে। আর তারপর সব হারিয়ে কাজের জন্য যেতে হচ্ছে ভিন রাজ্যে । এই ঘটনা দুই ২৪পরগণার সুন্দরবন এলাকা জুড়ে। তবে এবার সেই পুরনো ছবিকে কার্যত বদলাতে চাইছে বাংলার নতুন সরকার। কাজের জন্য আর ভিন রাজ্যে নয়, নিজের এলাকাতেই কর্মসংস্থান। এমনই চিন্তাভাবনা নিয়ে মঙ্গলবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সোনারপুরে উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার পঞ্চায়েত আধিকারিকদের নিয়ে এক উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
এদিনের বৈঠকে সুন্দরবনের সামগ্রিক উন্নয়নের বিষয়গুলি নিয়েই দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়। এই আলোচনা গুলির মধ্যে যেমন আবাস, কর্মসংস্থান, গ্রামীন পরিকাঠামো, পানীয় জল, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পুনর্গঠন।।
এদিনের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান ,”সুন্দরবনের বাস্তব পরিস্থিতি অন্য জেলার মতো নয়। এখানে নদীখাঁড়ি আর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ পেরিয়ে বহু এলাকায় পৌঁছতে হয়। কোথাও নৌকাই একমাত্র ভরসা তাই আবাস যোজনার সমীক্ষার কাজ কিছুটা সময় সাপেক্ষ। তবে প্রশাসনকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে আগামী ৩১ শে আগস্ট এর মধ্যে সমীক্ষা শেষ করতে হবে”। এদিন মন্ত্রী আরও জানান, “সুন্দরবন অঞ্চলে ৩০০রও বেশি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। অনেক জায়গায় এখনো সমীক্ষাকারী দলকে নৌকায় চেপে একাধিক নদী পার হয়ে যেতে হচ্ছে। ফলে প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা কাজের গতি কিছুটা কমালেও কোনও প্রকৃত উপভোক্তা যাতে সরকারি আবাসন প্রকল্প থেকে বঞ্চিত না হন সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে”। এদিন সুন্দরবনের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ এই অঞ্চলের সমস্যা কেবল অর্থের নয় ভৌগোলিক ও। প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাস, নদী ভাঙ্গন এবং লবণাক্ততার কারণে বহু মানুষ নতুন করে জীবন শুরু করতে বাধ্য হন। বহু পরিবার বছরের পর বছর স্থায়ী আবাসন ও নিয়মিত আয়ের অভাবে অনিশ্চীয়তার মধ্যে দিন কাটায়। তাই এবার উন্নয়নের পরিকল্পনা শুধু বাড়ি নির্মাণ নয়। তাই জীবিকা তৈরির উপরে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে”। পাশাপাশি সুন্দরবনের অর্থনীতির অন্যতম বড় সমস্যা কর্মসংস্থানের অভাব। কৃষিকাজ বছরের সব সময় থাকে না। মাছ ধরা কিংবা মধু সংগ্রহ ও ঝুঁকিপূর্ণ ।ফলে বহু মানুষ বাধ্য হয়ে রাজ্যের বাইরে চলে যান। এই পরিস্থিতি বদলাতে পঞ্চায়েতের মাধ্যমে ৩০০রও বেশি উন্নয়নমূলক প্রকল্প হাতে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী। রাস্তা নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সেচ প্রকল্প, পুকুরসংস্কার, গ্রামীন পরিকাঠামো উন্নয়ন, জল সংরক্ষণ এবং সরকারি ভবন নির্মাণ সহ একাধিক প্রকল্পে স্থানীয় মানুষকে কাজ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। দক্ষ ও অদক্ষ দুই ধরনের শ্রমিককে এই প্রকল্পে কাজের সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি জানান,”একজন মানুষ যদি নিজের গ্রামে কাজ পান,তাহলে পরিবারকে ছেড়ে হাজার কিলোমিটার দূরে যেতে হবে না। আমাদের লক্ষ্য সেই পরিস্থিতি তৈরি করা”।






