
ফাইল চিত্র-
তোতন দাশ,বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- শীতল ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করল। চারিদিক অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে গেল। কোন কিছু ঘটতে চলেছে আগে থেকেই একটা আন্দাজ করতে পেরেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। হঠাৎই গঙ্গাসাগরের কপিল মুনির আশ্রম সংলগ্ন ২ নম্বর স্নান ঘাটের কাছেই সাগরের জলে হঠাৎই টর্নেডো বা ‘ওয়াটার স্পাউট’ ।বৃহস্পতিবার সকালে সমুদ্রের বুকে আচমকা এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়। আর এর ফলে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় পূণ্যার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে বৃহস্পতি আর সকাল ৯ টা নাগাদ গঙ্গাসাগরের উপকূল এলাকার ঘন কালো মেঘে ঢেকে যায়। ঠান্ডা ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে। সাড়ে নটা নাগাদ সমুদ্রের জলে টর্নেডো ।প্রায় ৩০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে এই দৈত্য আকারের টর্নেডো যেন আকাশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সকলেই নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়। কেউ কেউ আবার মোবাইলে সব ঘটনা রেকর্ডিং করে। যদিও জলের মধ্যেই তান্ডব হলেও স্থলভাগে তার কোন প্রভাব পড়েনি। এর ফলে বড়সড়ো ক্ষয়ক্ষতিও ঘটেনি।
উল্লেখ্য গত ১৮ই জুন ২০২৬ দক্ষিণ ২৪ পরগনার গঙ্গাসাগরে মহিষমারি এলাকায় বৃহস্পতিবার সাড়ে ১১টা নাগাদ হুগলি নদীতে ঘটে গেল এক বিরল ঘটনা। একসঙ্গে দুটি টর্নেডোর মতো প্রায় ৩০-৪০ ফুট নদীর জল ঘুর পাক খেতে উপরে উঠে যাচ্ছে। নদীর বুকে এমন জলরাশি হঠাৎই আকাশের দিকে চলে যেতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় মানুষজন। আতঙ্ক ছড়ায় নদীপথে যাতায়াতকারী নৌকা-ভুটভূটিতে থাকা মৎস্যজীবীদের মধ্যে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, প্রথমে নদীর মাঝখানে জল প্রচন্ড জোরে ঘুরপাক খেতে শুরু করে ।এরপর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিপুল জররাশি আকাশ এর দিকে উঁচুতে উঠে যায়। পাশাপাশি জোড়া টর্নেডোর বিরল দৃশ্য দেখে অনেকেই তা মোবাইল বন্দী করেন। আবার কেউ ভয়ে এদিক ওদিক ছুটতে দেখা যায়। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষজন জানায় এই জোড়া টর্নেডো বেশ কয়েক মিনিট স্থায়ী হয়। পরে আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢেকে যায়। প্রবল হাওয়া শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে গঙ্গাসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে চলে তুমুল ঝড়-বৃষ্টি। অভিজ্ঞ আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্র ও নদী সংলগ্ন এলাকায় জলীয় বাষ্প তাপমাত্রার পার্থক্য বায়ুর চাপ পরিবর্তনের কারনে কখনো কখনো এই ধরনের ওয়াটার স্পাউট তৈরি হয়। চলতি কথায় টর্নেডো হিসেবে পরিচিত।এমনই ঘটনা উপকূলবর্তী এলাকায় মাঝেমধ্যে দেখা যায়। যদিও এখন কোন প্রানাহানি বা বড় ধরনের ক্ষতির কোন খবর পাওয়া যায়নি। তবে পর পর এই টর্নেড,র ঘটনা নিয়েই ইতিমধ্যে জোর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে বিভিন্ন মহলে।
এ বিষয়ে সাগরদ্বীপের ধবলাট লক্ষ্মণ পরবেশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার ও শিক্ষারত্ন প্রাপ্ত ভূগোল বিষয়ের শিক্ষক শান্তনু গায়েন বলেন, ‘ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি প্রচুর পরিমাণে গরম ও আর্দ্র বাতাসের উপস্থিতি ।উপরের স্তরের ঠান্ডা ও শুস্ক বাতাসের অবস্থান। উচ্চতার সাথে সাথে বাতাসের গতিবেগ ও দিকের হঠাৎ তীব্র পরিবর্তন। ভূপৃষ্ঠ থেকে গরম ও আর্দ্র বাতাস অত্যন্ত দ্রুত বেগে উপরের দিকে উঠে যাওয়া।এছাড়া উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুর সাথে শীতল বায়ুর সংঘর্ষ এবং বায়ু মন্ডলের তীব্র অস্থিরতার ফলে সৃষ্ট শক্তিশালী বজ্র ঝড় বা সুপারসেল থেকেই প্রধানত টর্নেডো সৃষ্টি হয়।

ADVT

ADVT


ADVT

