অফিস খুলে কেন্দ্রীয় এজেন্সির নাম ভাঁড়িয়ে প্রতারণার ছক,ডায়মণ্ডহারবারে গ্রেপ্তার ৬

রাজ্য

তোতন দাস,বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- ডায়মন্ড হারবার পৌর এলাকায় ঘাঁটি ঘেরে প্রতারণার ঘুঁটি সাজিয়ে, একের পর এক কখনও নারকোটিস কন্ট্রোল ব্যুরো কখনও সিবিআই আবার ইডি সহ একাধিক কেন্দ্রীয় এজেন্সির নাম ভাঁড়িয়ে সমগ্র দক্ষিণ চব্বিশ পরগনাজেলার বিভিন্ন ছোট-বড় ব্যবসায়ী বিভিন্ন মানুষজনদের কাছ থেকে হুমকি দিয়েই চলছিল প্রতারণা চক্র। শেষমেষ ডায়মন্ড হারবার পুলিশের জালেএই চক্রের  মূল পান্ডা সহ গ্রেফতার ৬জন প্রতারক ।বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে তাদের এসআইসিআই অফিস।উদ্ধার একাধিক ভুয়ো আইকার্ড,ব্যানার অন্যান্য নথি।
এ যেন সিনেমার চিত্রনাট্য। তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ডায়মন্ড হারবার পৌরসভার১৪ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন বাজার এলাকায় একেবারে ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালতের খুব কাছেই একজনই জনৈক ব্যক্তির বাড়ি ভাড়া নিয়ে খোলা হয়েছিল এসআইসিআই ক্রাইম এসোসিয়েশন। সে বিষয়টি নজরে আসে পুলিশের। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, এই অফিস উদ্বোধনের দিন গভঃ অফ ইন্ডিয়ার লোগো লাগানো গাড়ি নিয়ে এসেছিলেন কোলকাতার লেক বাসিন্দা ফাল্গুনী চ্যাটার্জি সহ অন্যান্য সঙ্গীরা ।বেশ কিছুদিন ধরে নানা জায়গা থেকে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ছিল থানায়।এরপরই ঘটনার তদন্তে নামে ডায়মণ্ডহারবার থানার পুলিশ।ডায়মণ্ডহারবারের এসডিপিও সকিব আহমেদ ও ডায়মণ্ডহারবার থানার আইসি অমরজিৎ বিশ্বাসের নেতৃত্বে গঠন করা হয় একটি বিশেষ টিম।শুরু হয় তদন্ত।উদ্ধার হয় তাদের ভুয়ো আইকার্ড,নথিপত্র সহ প্রতারকদের বিভিন্ন ব্যানার,পোস্টার।ধৃতদের জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন,তাদের প্রধান কার্যালয় দক্ষিণ দিনাজপুরে।ফলে অভিজ্ঞ তদন্তকারীরা মনে করছেন, দক্ষিণ দিনাজপুর,ডায়মণ্ডহারবার এবং কোলকাতা প্রভৃতি এলাকায় আর কারা জড়িত এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে। পাশাপাশি আর অন্য কোন জায়গায় অফিস আছে কিনা সে বিষয় গুলি জানার চেষ্ঠা করছেন তদন্তকারীরা।

এবিষয় ডায়মণ্ডহারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(জোনাল)মিতুন দে জানান,আমাদের নজরে আসে সোশ্যাল লিগাল ক্রাইম ইনফরমেশন নামের একটি সংগঠন খোলা হয়েছে। তারা ব্যানার,সংগঠনের কর্তাদের বিভিন্ন আই কার্ড তৈরি করে কার্যকলাপ শুরু করেছিল । এই সংগঠনের তরফ থেকে যাদের অ্যাপ্রচ করা হয়েছিল তারা মূলত দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা বেশ কিছু মানুষজন। যাঁরা এই প্রতারণার শিকার তারা জানান, ধমকে- চমকে সিবিআই ইডি অফিসার সিআইডি অফিসার কখনো ভিজিলেন্স অফিসার আবার কখনও নারকোটিস কন্ট্রোল ব্যুরো অফিসার পরিচয় দিয়ে, চমকে ধমকে প্রতারণা চলছিল। অভিযোগকারীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পরই মামলা রুজু করে কেস স্টার্ট করা হয়। সম্প্রতি তাদের ৬জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ফাল্গুনী চ্যাটার্জি নামে কোলকাতার লেকের বাসিন্দা। এ হল   চক্রের মূলপান্ডা ছিলেন ।পাশাপাশি এই ঘটনায় যুক্ত চারজন এরা হলেন সুজাউদ্দিন শেখ বাড়ি ফলতা। গোপাল বারিক লেক থানা এলাকায় বাড়ি। সন্দীপ বর্মন, মোস্তাকিন মোল্লা এবং জামাল হালদার কুলতলীর বাসিন্দা। এই ধরনের কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিল যেমন ভুয়ো আই কার্ড বানানো। বিভিন্ন সরকারি নথিপত্র ব্যাচ প্রভৃতি নকল করা। এছাড়া লোকজনকে চমকে ধমকে জুলুমবাজি করে চাঁদা ইত্যাদি কার্যকলাপে যুক্ত ছিল। ফলে আমাদের আইনের বৈধ সেকশান গুলি আছে তাতে কেস শুরু করা হয়েছে। তবে এই ঘটনাটি এখন প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। আর কেউ জড়িত কিনা সে বিষয় তদন্ত চালানো হবে।

ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন,ডায়মণ্ডহারবার পুলিশ প্রশাসন,রাজ্য জুড়ে বড়সর প্রতারণা চক্রের ফাঁদ একেবারে শুরুতেই দ্রুত চিহ্নিত করে একেবারে মূলছেদ করায় এ যাত্রায় বহু মানুষ অভিনব প্রতারণার হাত থেকে কার্যত বেঁচে গেল।

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

খবর এবং বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন:-৯১৫৩০৪৩৩৮০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *