
হিমাদ্রিশেখর মণ্ডল, বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- : দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভার উপ-নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী জয়ী হবেন এটাতো প্রত্যাশিতই ছিল। শুধু দেখার বিষয় ছিল কত ভোটের ব্যবধানে বিজেপি জিততে পারে। ভোটের আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন ‘ফলতাতে আপনারা লক্ষাধিক ভোটে বিজেপিকে জেতান ফলতাকে উন্নয়নের মডেল বানাবো।’ শুভেন্দু অধিকারীর সেই ইচ্ছা পূরণ করেছেন ফলতার ভোটারা। ফলতাতে বিজেপি প্রার্থী এক লক্ষ আট হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন। আর এই জয়ের সাথে সাথে বিজেপি পৌঁছে গেল ২০৮-এ।
ফলতার ভোটের রায়ে উচ্ছ্বসিত মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারী। এই জয়ের পর ফেসবুকে তিনি লিখেছেন “কুখ্যাত ডায়মন্ড হারবার মডেল এখন পরিণত হয়েছে হার-বার মডেলে। প্যারাসুটে নেমে সেনাপতি আখ্যা পাওয়া এক জালিয়াত এমন কোনও অপরাধ নেই যা সংঘটিত করেননি। বিজেপির জয়ের ব্যবধান এক লক্ষ আট হাজার পেরিয়ে গেছে। আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বের সামনে নির্বাচন নোটার বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে।”
এই ভোটের ফলাফলের পরে ফলতায় তৃণমূল কংগ্রেসের সবুজ আর রইলো না। সবই গেরুয়া হয়ে গেল পুনঃনির্বাচনের চাপে। আনাচে কানাচে, গলিতে গলিতে জোড়াফুল নিঃশেষিত হল পদ্মের চাপে। মাত্র দু’বছর আগে লোকসভা ভোটে তৃণমূলের রাজপুত্র – ভাইপো ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে ৭ লক্ষ ১০ হাজার ভোটে জয়ী হয়ে এই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে একটা আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তারপর ” ডায়মন্ড হারবার মডেল” এর কথা আপনারা তো সবাই শুনেছেন। আসলে মডেলটা যে কী,তা ফলতাই প্রমাণ করে দিল ডায়মন্ড হারবার লোকসভার অন্তর্গত সাতটি বিধানসভায় কিভাবে তৃণমূলের রাজপুত্র -ভাইপো এত ভোটের ঝুড়ি নিয়ে রাজ্যে রেকর্ড করলেন ? আসলে এটাই “ডায়মন্ড হারবার মডেল”।
উল্লেখ করা যেতে পারে, এই ৭টি বিধানসভার মধ্যে একটি ছিল ফলতা, যেখানে যুবরাজের এগিয়ে থাকার মার্জিন ছিল ১ লক্ষ ৬৫ হাজার। ভাবতে পারছেন? অস্বাভাবিক ভোটে জেতাটা কিভাবে হয়েছে ? তাই ইভিএমে সেলো টেপ, সুগন্ধি মাখিয়ে রাখার অভিযোগের ঘটনা ধরা না পড়লে ভোট লুঠ,ছাপ্পা ভোট,বুথ দখল করেই রেকর্ড সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ ছিল, আজ তা প্রমাণিত, যা আগামী লোকসভা ভোটে বিজেপির পক্ষে সুবিধেজনক হবে।
হিসেব মত ২০০৬ সাল পর্যন্ত বামেরা শাসন করে এসেছে ফলতাকে,আর সবাইয়ের প্রবেশ নিষেধ ছিল। ২০০৯ সালের লোকসভা থেকে তৃণমূলের হাতে এল। আর আজ চিত্রনাট্য শেষ, লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে গেরুয়া আবিরে ভরে গেল ফলতার মাটি। যদিও সিপিএম এখন দ্বিতীয় স্থানে, কংগ্রেস তৃতীয় স্থানে, আর তৃণমূল তলানিতে । অবশ্য ভোটের আগেই ময়দান ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান। তিনি কয়েকদিন আগেই বুক ফুলিয়ে বলেছিলেন,’পুষ্পা ঝুকেগা নেহি।’ অথচ আমরা দেখলাম উপনির্বাচনের আগেই পুষ্পার পাপড়ি ঝরে গেল। তিনি ভোটের ময়দান থেকে পালিয়ে বাঁচলেন।
সুতরাং রাজনীতিতে জনাদেশ কখন, কোথায়, কিভাবে পরিবর্তন করে, গণদেবতার আশীর্বাদ কখন, কার উপর বর্ষিত হয়, এটা কখনও আগাম বলা যায় না। কেননা, জন সমর্থনের রসায়ন ও চরিত্র চেনা অত সহজ নয়। বিজেপির ঝুলিতে আরও একটা বিধানসভা বাড়লো। ফলতার বুকে উড়ল বিজেপির গেরুয়া পতাকা।

ADVT





