
নিজস্ব চিত্র–
বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- রাজ্যে পালাবলের পর পৃথক দুটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল ডায়মণ্ডহারবার।বাসুলডাঙ্গায় বিজয় উৎসবের প্রীতি ভোজে হামলা, বিজেপি কর্মীদের মারধরের অভিযোগ।অন্যদিকে মাথুরের রাতে বাড়ি ফেরার সময় বিজেপি কর্মীদের মারধরের অভিযোগ।এই দুটি ঘটনায় আহত প্রায় ৮-১০জন বিজেপির সক্রিয় কর্মী।আহতদের চিকিৎসার জন্য ডায়মন্ডহারবার মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । এদের মধ্যে অধিকাংশ আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।তবে তাদের মধ্যে৩জনের আঘাত গুরু্তর হওয়ায় তাঁরা ভর্তি রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।ঘটনায় ১জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে,বাকিদের খোঁজে জোর তল্লাশি চলছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
যদিও তৃণমূলের দাবি এটা বিজেপির নিজেদের মধ্যে গন্ডোগোল এর সঙ্গে তৃণমূলের যোগ নেই।
এদিকে সোমবার সকালে আহত বিজেপি কর্মীদের দেখতে হাসপাতালে যান ডায়মন্ড হারবারের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বিজেপি নেতা দীপক হালদার।তিনি আহতদের সঙ্গে কথা বলেন পাশাপাশি বাড়ির পরিবার পরিজনদের সঙ্গে কথা বলেন।
এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন,
“পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন হয়েছে। বাংলার মানুষ মুক্তির স্বাদ পেয়েছে। সবাই আনন্দে আত্মহারা। আর ঠিক সেই সময় তৃণমূল হার্মাদ বাহিনী, যারা পরিকল্পিতভাবে অতি বিজেপি সেজে আমাদের কিছু কিছু নেতার কাছাকাছি আসার চেষ্টা করছে এবং তার ফলে অনেক বেশি সাহস নিয়ে আমাদের পুরনো কর্মীদের মারধর করছে। গতকাল বাসুরডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েত এবং মাথুর গ্রাম পঞ্চায়েতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে জানিয়েছি। প্রশাসনকে অনুরোধ করবো এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য যা যা করণীয় সেটা তারা যেন অবশ্যই করেন। পাশাপাশি তিনি জানান,এই ঘটনায় বাসুলডাঙ্গায় ৮ থেকে ১০ জন বিজেপি পুরনো কর্মী আহত হন। এবং মাথুর গ্রাম পঞ্চায়েতে ৫ -৬ জন। তবে তাদের বেশিরভাগটাই প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতাল থেকে দুইজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তবে তারা কোলকাতায় ট্রিটমেন্টের জন্য যাচ্ছে। আপাতত ডায়মন্ড হারবার মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে ভর্তি ৩ জন। তাদের মধ্যে বাসুল ডাঙ্গার একজন এবং মাথুর গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে দুজন”।
কি ঘটনা থেকে এই হামলা হল সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, “বিষয়টি ছিল এই যে, নির্বাচনে জিতে তারা সকলে মিলে রবিবার একটা প্রীতিভোজের আয়োজন করেছিল। এই ভোজে সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেই আমন্ত্রণে তৃণমূলের কিছু ছেলে প্রশ্ন তুলেছিল কেন তাদেরকে নিমন্ত্রণ করা হচ্ছে? আর এই নিয়ে কথা কাটাকাটি বচসা থেকে মারামারি। দীপক হালদারের আরও অভিযোগ ,তৃণমূলের হার্মাদরা আমাদের কর্মীদের মারধর করে, এদের নামে থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছিল। ইতিমধ্যে একজন গ্রেফতার হয়েছে। সেই সাথে তিনি জানান,,প্রশাসন পদক্ষেপ গ্রহণ করে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে এলাকার মানুষের কাছে করজোড়ে অনুরোধ করছি যাতে শান্তিতে থাকুন- সংযত থাকুন। এখন দায়িত্ব অনেক, নতুন সরকার এসেছে। আমাদের কাছে মানুষের প্রত্যেক প্রত্যাশা অনেক বেশি। তাই মানুষকে ভাল রাখা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। সেই সাথে আমি বলব যাঁরা তৃণমূল করেছেন আপনারও সংযুক্ত থাকুন তা না হলে যদি ইচ্ছাকৃতভাবে অযাচিত ভাবে ঝগড়া ঝাটি করতে চান তাহলে পরিবেশটা অশান্ত হবে। সেটা যাতে না হয় তার জন্য সজাগ দৃষ্টি রেখেছি এবং প্রশাসনের সাহায্য চাইছি” ।
যদিও এই ঘটনা প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে ডায়মন্ডহারবারের তৃণমূল বিধায়ক পান্নালাল হালদার বিজেপির তোলা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “এটা বিজেপির নিজেদের মধ্যে গন্ডোগোল । এর সঙ্গে তৃণমূলের যোগ নেই। রাজনৈতিক ভাবে দোষারোপ করার চেষ্টা করছে।পুলিশ নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করুক,যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক”।

ADVT





