নিউ গড়িয়ার আবাসনে বৃদ্ধা খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২  

রাজ্য

বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- নিউ গড়িয়ার আবাসনে বৃদ্ধার খুনের ঘটনায়।সবে মাত্র কাজে যোগ দেওয়া আয়া ও তার একসঙ্গীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ ।
নিউগড়িয়ার  আবাসনে বৃদ্ধা খুনের কিনারা। বৃদ্ধা খুনের সন্দেহে গ্রেপ্তার সেন্টার থেকে সবেমাত্র কাজের যোগ দেওয়া আয়া। আর এই ঘটনার পরই তদন্তে নামে পুলিশ। পুলিশের জালে আশালতা সরদার ওতাঁর একসঙ্গী জালাল মীরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

 তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, জালালকে  দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঢোলাহাট থেকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারী সূত্রে আরও জানা গেছে, ঘটনার সময় আশালতা ভিতরে ছিল বাইরে পাহারায় ছিল জালাল। গত বৃহস্পতিবার এই খুনের ঘটনাটি ঘটে। এরপর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে গ্রেফতার করে তাদের। তবে লুটের উদ্দেশ্যে এই খুন বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান করছেন অভিজ্ঞ তদন্তকারীরা।

একাকী থাকা। হাঁটা চলার ক্ষেত্রে সমস্যা ছিল ওই দম্পতির। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই কার্যত টার্গেট করে এই লুট অনুমান তদন্তকারীদের। আরও জানা গেছে, এই ঘটনার সময়ে ঠিক আগের মুহূর্তে বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ একেবারে বিচ্ছিন্ন করা হয় । যাতে অভিযুক্তদের কোন ছবি ক্যামেরায় ধরা না সেজন্য কেটে দেওয়া হয়েছিল সিসিটিভি ক্যামেরার তার। সেইসঙ্গে হাত-পা এবং মুখ বেঁধে মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করে খুন করা হয় বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। খুনের পর বৃদ্ধার পরে থাকা সোনার গয়না লুট করে চম্পটদেয় অভিযুক্তরা। তবে এই খুনের ঘটনায় ২জন ছাড়া আর কেউ জড়িত আছে কিনা সে বিষয়ে খতিয়ে দেখছেন পঞ্চসায়র থানার অভিজ্ঞ তদন্তকারীরা।
তদন্তকারী সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বৃদ্ধা বিজয়া দাসকে মাথায় কোন ভাড়ী কিছু দিয়ে আঘাত করে।পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। ঘটনার পর রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।এদিকে বৃদ্ধার স্বামীকে অন্য একটি ঘরের খাটের তলা থেকে উদ্ধার করা হয়। তিনি সেখানে কিভাবে পৌঁছলেন  সেবিষয় গুলি খতিয়ে  দেখছেন  তদন্তকারীরা।

 তদন্তকারী সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা গিয়েছে। ঘটনার দিন আবাসনে ঢুকেছিল তারা। তবে পুলিশ সূত্রে খবর ১৫ বছর ধরে এক পরিচারিকা ওই বাড়িতে কাজ করেন। ঘটনার পরের দিন সাড়ে পাঁচটা থেকে ৬টার মধ্যে তিনি বৃদ্ধার  বাড়িতে যান।বেশ কয়েকবার ডাকাডাকির পর কোন সাড়াশব্দ না পাওয়ার  পরই সন্দেহ হয়। বাড়ির পিছনের দিক দিয়ে গিয়ে দেখেন গেট বাইরে থেকে লাগানো রয়েছে। দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে সিড়ির পাশে বৃদ্ধা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই পুরনো পরিচারিকার থেকে বৃদ্ধার ফোন নম্বর পাওয়া যায়। উল্লেখ্য ওই ফোনটি খোয়া গিয়েছিল। তবে সচল ছিল, ওই ফোন নাম্বর ট্র্যাক করেই অভিযুক্তদের পাকড়াও করে পুলিশ। ঘটনার দিন সন্ধ্যে সাড়ে সাতটা নাগাদ আশালতা এবং তার সঙ্গী জালাল এই দুজন নিউ গড়িয়ার  ওই আবাসনে ঢোকে এবং সাড়ে এগারোটার মধ্যে বেরিয়ে যায় বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, বৃদ্ধা যখন রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল তখনই তার পরনে ছিল না কোন গয়না। তদন্তকারীদের অনুমান লুটের কারণেই খুন করা হয়েছে বৃদ্ধাকে। জানা গেছে, দশ পনেরো বছর ধরে একাই থাকতেন বৃদ্ধ দম্পতি। কর্মসূত্রে ছেলে এবং মেয়েরা মুম্বই এবং জার্মানিতে থাকেন। ফলে একাকী বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে টার্গেট করেছিল অভিযুক্তরা।

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

খবর এবং বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন:- ৯১৫৩০৪৩৩৮০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *