ভোটের দু’দিন আগে থেকেই বাইক চালানোয় বিধিনিষেধ জারি করল কমিশন ! কোন কোন ক্ষেত্রে মিলবে ছাড়

রাজ্য

প্রতীকী ছবি—-

বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই কমিশনের তৎপরতা শুরু হয়েছে।২৩শে এপ্রিল প্রথম দফার ভোট মোট ১৫২ টি আসনে ভোট গ্রহণ হবে। আর ভোট আবহে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ঠিকঠাক রাখতে এবং ভোট দাতাদের ভীতি প্রদর্শন রুখতে এবার নজির বিহীন নির্দেশিকা জারি করেছে, ভারতের নির্বাচন কমিশন। এই নির্দেশিকা অনুযায়ী ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘন্টা আগে থেকে সংশ্লষ্ট নির্বাচনী এলাকা গুলিতে মোটরসাইকেলের চলাচলের উপরে কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞায় কি কি জানানো হয়েছে বিস্তারিত জেনে নিন—
কমিশনের নির্দেশিকা জানানো হয়েছে, ভোটের ২ দিন আগে থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬ টা থেকে পরের দিন সকাল ৬টা পর্যন্ত রাস্তায় কোনো বাইক চলাচল করতে পারবেনা। এমনকি দিনের বেলায় অর্থাৎ সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময়কালে বাইকের পিছনে আসনে আরোহী বসানোর ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে সব ধরনের বাইক মিছিল উপরে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের মনে করেছে, অনেক সময় দুষ্কৃতীরা বাইকে ব্যবহার করে ভোটারদের ভয় দেখানো বা প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। সরু গলি বা ছোট রাস্তার ক্ষেত্রে খুব দ্রুত যাতায়াত করতে পারা যায়। এক্ষেত্রে বাইক  সাহায্য করে। নগদ টাকা বা বেআইনি মদ সরবরাহের ক্ষেত্রে অনেক সময় বাইক ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের অসাধু কার্যকলাপ রুখতেই  কড়া পদক্ষেপ। প্রথম দফার ভোটের জন্য মঙ্গলবার থেকেই এই নির্দেশিকা কার্যকর হতে শুরু করেছে। তবে জরুরী প্রয়োজনে সাধারণ মানুষের জন্য কিছু ছাড় রাখা হয়েছে। চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি প্রয়োজনে, সন্তানকে স্কুল থেকে আনা নেওয়া বা খুব প্রয়োজনে পারিবারিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে বাইক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এই ধরনের জরুরি ক্ষেত্রে ছাড় পেতে গেলে স্থানীয় থানার নির্দিষ্ট অনুমতি প্রয়োজন হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের এই বিধি-নিষেধের ঘোষণার পর,  রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল এর মুখপাত্র জয় প্রকাশ মজুমদার এই নির্দেশিকা বেড়ানোর পরই বলেন, “সুইগি, জোমাটোতে  বহু মানুষ ডেলিভারি করে।সেই জীবিকাতেও এবার কি কোপ দিতে চাইছে কমিশন। জ্ঞানেশ কুমার কি চাইছেন?” যদিও কমিশনের স্পষ্ট দাবি শান্তিপূর্ণ ভোটের উদ্দেশ্যে এই ব্যবস্থা। এছাড়াও ভোটের আগে রাজ্যের সীমান্ত অঞ্চলে যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রাজ্যের শান্তিপূর্ণ ভোট হবার জন্য গলি বা ঘিঞ্জি এলাকায় অবস্থিত বুধ গুলির ক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কমিশনের তরফে।

 জানা গেছে, ওইসব এলাকায় অশান্তি হলে পুলিশ য়াতে দ্রুত পৌঁছে তো পারে তার জন্যই এবার বাইক ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে, ভৌগলিক অবস্থানের কারণে যেখানে সেখানে পুলিশের বড় বা গাড়ি বা পিসিআর  ভ্যান পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে, তাই প্রতিটি থানার অধীনে একটি করে দক্ষ বাইক বাহিনী প্রস্তুত রাখতে হবে।  

ADVT

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *