মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন সাগরদ্বীপে ‘বাংলারবাড়ি’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্বের সূচনা, পাকা ছাদ পেয়েছেন কয়েক হাজার পরিবার

রাজ্য

 রমেশ রায়,বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:-     মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর ঐকান্তিক প্রয়াসে শুভারম্ভ হল ‘বাংলার বাড়ি’ আবাসন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্ব বুধবার থেকেই ।এদিন ভার্চুয়াল মোডে রাজ্যের অন্যান্য জেলার পাশাপাশি দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলাও যুক্ত হয়েছিল হুগলির-  সিঙ্গুরের প্রশাসনিক সভায় মুখ্যমন্ত্রীর মূল অনুষ্ঠানের সাথে।  দক্ষিণ২৪পরগণা জেলা সদর আলিপুরে, জেলার অনুষ্ঠান থেকে বেশ কিছু উপভোক্তাকে পরিষেবা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,  জেলাশাসক অরবিন্দ কুমার মিনা,দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা পরিষদের জেলা সভাধিপতি নীলিমা মিস্ত্রী বিশাল, এস, পি( ডায়মন্ড হারবার ও কাকদ্বীপ পুলিশ জেলা) , বিধায়ক সহ অন্যান্য অতিথিবর্গ।

​জানা গেছে,এদিন দক্ষিণ২৪পরগণা জেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন সাগরদ্বীপে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্বের শুভ সূচনায়, পাকা ছাদ পেয়েছে কয়েক হাজার পরিবার।
রাজ্যজুড়ে প্রায় ২০ লক্ষ পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এরই অঙ্গ হিসেবে দক্ষিণ ২৪ পরগণার সাগর ব্লকের রুদ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের মনসাদ্বীপ খাসমহাল গ্রামে এক অভিনব ‘ক্লাস্টার-মোড’ ভূমিপুজো বা ভিত-পুজো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মনসাদ্বীপ খাসমহাল গ্রামটি মূলত তফসিলি জাতি (SC) অধ্যুষিত এলাকা। উল্লেখ্য, ১৯৯৪-৯৫ সালে ঘোরামারা দ্বীপের ভয়াবহ ভূমি ক্ষয়ের কারণে ভিটেমাটি হারিয়ে এই মানুষগুলো এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় কাঁচা ঘরে কষ্টে দিন কাটানোর পর, রাজ্য সরকারের ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার আর্থিক সহযোগিতায় আজ তাঁরা পাকা ঘর পেতে চলেছেন। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ১১২ জন ঘর পেলেও, দ্বিতীয় পর্যায়ে নতুন করে আরও ১৮৫ জন উপভোক্তার হাতে অনুমোদনপত্র ’ তুলে দেওয়া হয়। এদিন অনুষ্ঠানটি একটি উৎসবের রূপ নেয়। সাগরের বিডিও কানাইয়া কুমার রাও এবং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাবিনা বিবি সহ একঝাঁক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত থেকে উপভোক্তাদের হাতে পাট্টা ও শুভেচ্ছা বার্তা তুলে দেন। গ্রামের ১৫টি বাড়িতে প্রথা মেনে ক্লাস্টার মোডে ভূমিপুজো সম্পন্ন হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাগর ব্লকে সব মিলিয়ে ৯,১৩০টি পরিবার এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছে, যার জন্য সরকারের ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১০৯.৫৬ কোটি টাকা। অনুষ্ঠানে একটি বৃহৎ এলইডি স্ক্রিনের মাধ্যমে আগের পর্যায়ের সফল উপভোক্তাদের অভিজ্ঞতা বর্তমানদের সামনে তুলে ধরা হয়, যা উপস্থিত জনতাকে অনুপ্রাণিত করে। নতুন বাড়ি তৈরির পাশাপাশি শৌচাগার নির্মাণের মাধ্যমে গ্রামটিতে শতভাগ স্যানিটেশন ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানটি প্রীতিভোজ এবং  মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের মাধ্যমে শেষ হয়।

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

খবর এবং বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন:- ৯১৫৩০৪৩৩৮০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *