
বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- বর্ষ শেষের শেষ রবিবার হাড় কাঁপানো শীত অপেক্ষা করেও সাংবাদিক ও কবি-সাহিত্যিকরা মেতে উঠলেন সাংবাদিকতা ও সাহিত্যের মিঠেকড়া আড্ডায়। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হিমাদ্রি মিশনের উদ্যোগে ২৮ ডিসেম্বর রবিবার সোনারপুর ঘাসিয়াড়া মোড়ে বালক সঙ্ঘে “সাংবাদিকতা ও সাহিত্যের মিঠেকড়া আড্ডা”র আয়োজন করা হয়। প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে এই আড্ডার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন হিমাদ্রি মিশনের সভাপতি বিশিষ্ট চিকিৎসক গিরীন্দ্রনাথ মণ্ডল। এই অনুষ্ঠানের সব থেকে বড় প্রাপ্তি অরণ্যদুত পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা ‘অরণ্যদূত পত্রিকার ৩০ বছর’ ও বঙ্গদর্পণ পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা ‘সুন্দরী সুন্দরবন ৫’-এর মলাট উন্মোচন। অরণ্যদুত পত্রিকার বিশেষ সংখ্যার উদ্বোধন করেন সাংবাদিক সুপ্রিয় মুখোপাধ্যায় ও বঙ্গদর্পণ পত্রিকার বিশেষ সংখ্যার উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক সিদ্ধার্থ সিংহ। এই আড্ডায় অংশগ্রহণ করেন রাজ্যের প্রাক্তন সেচমন্ত্রী তথা কবি সুভাষ নস্কর, হিঙ্গলগঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রাবন্ধিক আনন্দময় মণ্ডল, রাজপুর- সোনারপুর পৌরসভার প্রাক্তন উপ-পৌরপ্রধান তথা গল্পকার তড়িৎ চক্রবর্তী, বিশিষ্ট সাংবাদিক রক্তিম দাস, বিশিষ্ট কবি সুশীল মণ্ডল, অধ্যাপক ডঃ বিমল কুমার থানদার, কবি সুচরিতা চক্রবর্তী, কবি কার্তিক চন্দ্র সরকার, গল্পকার নিতাই পদ মণ্ডল, সাংবাদিক প্রণব মজুমদার, সাংবাদিক পল্লব রায়, সাংবাদিক সুজাউদ্দিন গাজী, প্রবন্ধিক বীরেন্দ্র নাথ মণ্ডল, সাংবাদিক দেবংশু চক্রবর্তী, গল্পকার হিমাংশু দাস, কবি সমরেশেন্দু বৈদ্য, কবি সহদেব মণ্ডল, কবি রজতশুভ্র গায়েন, কনক কান্তি রায়, মুক্তি চক্রবর্তী, উত্তম কুমার হালদার রঞ্জন চৌধুরী, মিহির মণ্ডল প্রমুখ।
প্রাক্তন সেচমন্ত্রী সুভাষ নস্কর তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘সুন্দরবনের একটি সংবাদপত্রের (অরণ্যদূত) ৩০ বছর পূর্ণ হল। একজন সুন্দরবনবাসী হিসেবে এটা আমাদের কাছে খুবই গর্বের। এই ধরনের সংবাদপত্র গুলো নানা বাধা অতিক্রম করেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের খবর পাঠকের কাছে এবং প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেয়। তাই এই ধরনের আঞ্চলিক সংবাদপত্র গুলোকে বাঁচিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি।’ তিনি অতীত দিনের সুন্দরবনের স্মৃতিচারণা করেন এবং অনেক অজানা তথ্য সবার সামনে তুলে ধরেন। সুন্দরবন অঞ্চলের অতীত ইতিহাস তুলে ধরেন আনন্দময় মণ্ডল। তড়িৎ চক্রবর্তী সোনারপুর অঞ্চলের অতীত ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি এই ধরনের অনুষ্ঠান করার জন্য হিমাদ্রি মিশনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন,’ নিজেদের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু এই ধরনের সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক কোনও অনুষ্ঠান হলে সব মতপার্থক্য ভুলে একসঙ্গে সবাই মিলে সেটাকে সাফল্যমণ্ডিত করা উচিত। সেটাই মনুষ্যত্বের পরিচয় হওয়া উচিত।’
সাংবাদিক সুপ্রিয় মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘জেলার সংবাদপত্র হচ্ছে দুয়োরানীর ছেলে। সরকারি খাতায় তাদের রেজিস্ট্রেশন আছে বটে, তবে তারা মর্যাদাহীন। তাদের কপালে বিজ্ঞাপন জোটে না। বিজ্ঞাপন না এলে অর্থের টানাটানি। ফলে ভাড়ার শুন্য। মানে কাগজ-ছাপা দুষ্কর হয়ে দাঁড়ায়। ফলে রক্তশূন্যতা। ছাপাখানার মালিক ধার বাকিতে কাগজ ছাপতে চান না। অন্যদিকে, মুখে রক্ত তুলে জেলার মাটি খুঁড়ে সাংবাদিকরা খবর এনে দেন জেলার সংবাদপত্রের সম্পাদকের কাছে। তাদের কপালেও অর্থ জোটে না।
অপরদিকে, শহুরে দৈনিক কাগজ আর টিভি চ্যানেলগুলো হচ্ছে সুয়োরানীর ছেলে। তারা সরকারিভাবে ‘এ’ গ্রেড বিজ্ঞাপন পান। বেসরকারি কোম্পানি গুলোও তাদের তোয়াজ করে চলে। লক্ষ লক্ষ টাকার বিজ্ঞাপন দেন তারাও। এমনকি নামিদামি লেখক ও প্রাবন্ধিকরাও জেলার সংবাদপত্রে বাঁ হাতে লেখা দেন। ফলে সব মিলিয়ে বলা চলে জেলার সংবাদপত্র হচ্ছে দুয়োরানীর ছেলে। ফলে চূড়ান্ত অবহেলা আর সরকারি তুচ্ছ- তাচ্ছিল্যের মধ্যেও ছিটেফোঁটা বিজ্ঞাপন জোগাড় করে অরণ্যদূত পত্রিকা যে ৩০ বছর বেঁচে আছে সেটাই আমার কাছে বিস্ময়কর।’
বিশিষ্ট সাহিত্যিক সিদ্ধার্থ সিংহ বাংলা সাহিত্যের গতি প্রকৃতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশিষ্ট সাংবাদিক রক্তিম দাস সাংবাদিকতার গতিপ্রকৃতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন এখন সাংবাদিকতার ধরন বদলে গেছে। তিনি আক্ষেপ সঙ্গে বলেন, ‘উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট বা দিল্লিতে কোনোও সাংবাদিক আক্রান্ত হলে বাংলার সাংবাদিকরা মোমবাতি নিয়ে রাস্তায় নামেন। অথচ বাংলায় কোনও সাংবাদিক আক্রান্ত হলে তার প্রতিবাদে কেউ রাস্তায় নামেন না।’ তিনি বর্তমান সময়ে বাংলার সাংবাদিকদের সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন বিশিষ্ট কবি সুশীল মণ্ডল। অজিত মণ্ডলের উদাত্ত কণ্ঠে আবৃত্তি এই আড্ডায় একটি অন্য মাত্রা এনে দেয়। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অরণ্যদূত ও বঙ্গদর্পণ পত্রিকার সম্পাদক হিমাদ্রিশেখর মণ্ডল। জয়নগরের মোয়া, গরম গরম তেলেভাজা আর নলেন গুড়ের চা সহযোগে এই মিঠেকড়া আড্ডা জমে ওঠে। শতাধিক সাংবাদিক ও কবি-সাহিত্যিক এই আড্ডায় অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত সকলেই দাবি তোলেন, তিন মাস অন্তর এই ধরনের একটি আড্ডার আয়োজন করা হোক। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এই মিঠেকড়া আড্ডার সঞ্চালনা করেন বরিষ্ঠ সাংবাদিক প্রবীর চক্রবর্তী।

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

খবর এবং বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন:- ৯১৫৩০৪৩৩৮০
