
নিতাই মালাকার,বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন অঞ্চলে দ্রুত তটভূমি ক্ষয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল জাতীয় সবুজ ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি)। বিশেষত ঘোড়ামারা দ্বীপের ক্রমাগত ভাঙন পরিস্থিতিকে “অতীব সংকটজনক” আখ্যা দিয়ে ট্রাইব্যুনাল স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মূল আবেদন নং ৪০২/২০২৫ হিসেবে মামলাটি গ্রহণ করেছে।
২০৪২ সালের মধ্যে সমুদ্রের অগ্রাসনে ঘোড়ামারা দ্বীপের প্রায় ৪০ শতাংশ অংশ বিলীন হয়ে যেতে পারে। এই প্রেক্ষিতে প্রধান বেঞ্চে শুনানি হয় মাননীয় বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও বিশেষজ্ঞ সদস্য ড. আফরোজ আহমেদের উপস্থিতিতে।
ট্রাইব্যুনাল পর্যবেক্ষণে জানায়, গঙ্গা বদ্বীপ অঞ্চল ভূ-প্রাকৃতিক পরিবর্তন, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়ের ঘনঘন আঘাত এবং মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ডের ফলে তীব্র ক্ষয়ের মুখে পড়েছে। বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে সুন্দরবন প্রায় ২৫০ বর্গ কিলোমিটার ভূমি হারিয়েছে। একই সময়ে ঘোড়ামারা দ্বীপের আয়তন ৮.৫৯ বর্গ কিলোমিটার থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩.৮৩ বর্গ কিলোমিটারে।
যদিও রাজ্য সরকার তটবন্ধ মজবুতকরণসহ একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে, ট্রাইব্যুনালের মতে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিবেশ সংরক্ষণ পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে—বিশেষ করে ম্যানগ্রোভ অরণ্য সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় এনজিটি একটি যৌথ কমিটি গঠন করেছে। কমিটিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের ভুবনেশ্বর আঞ্চলিক কার্যালয়ের মহাপরিচালক বন এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রধান মুখ্য বনপালকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ, তটভূমি ক্ষয় রোধ, সম্ভাব্য ব্যয়, অর্থের উৎস ও বাস্তবায়ন সময়সীমা নির্ধারণ করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

খবর এবং বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন:- ৯১৫৩০৪৩৩৮০
