
তোতন দাস,বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- আজ চৈত্র সংক্রান্তি। চৈত্র মাসের শেষ দিনে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বসেছে চড়ক মেলা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় ঐতিহ্যবাহী বেশ কয়েকটি চড়ক মেলার আয়োজন করে আসছে বহুবছর। তাদের মধ্যে অন্যতম ডায়মন্ড হারবারের বড়িয়া -বোলসিদ্ধির চড়ক। ডায়মন্ড হারবার নাইয়া পড়ার সংলগ্ন চড়ক। ফলতা, মন্দির বাজার, রায়দিঘি, মথুরাপুর, গড়িয়া মহামায়াতলা প্রভৃতি এলাকার চড়ক মেলার আয়োজন হয় ।তবে গ্রামীণ এলাকায় আজও বসে চড়কের মেলা। সেক্ষেত্রে শহর এলাকায় ক্রমশ হারিয়ে যেতে বসেছে এই চড়ক মেলা। কোথাও প্রোমোটিং হয়ে গড়ে উঠছে বহুতল। কালের স্রোতে অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে চড়ক মেলা। তবে আজও কাছাকাছি যে মেলাগুলি টিকে আছে তা হলো দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার এর বড়িয়া বোল সিদ্ধি কালিনগর। রাখাল ঠাকুর তলা, ডায়মন্ড হারবার পৌর এলাকার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের চড়ক মেলা, গড়িয়া মহামায়তলার চড়ক মেলা উল্লেখযোগ্য।
চৈত্র মাসের শেষ দিনে পশ্চিমে ঢলে পড়ার সূর্যাস্ত আর সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে ডায়মন্ড হারবার কপাটহাট থেকে নাইয়া পাড়া মোড় কিংবা রাখাল ঠাকুর তলার মেলা প্রাঙ্গণে থিক থিকে ভিড়। ছোট ছোট অসংখ্য দোকান। রঙিন আলো, মানুষের কোলাহল। ব্যস্ত রাস্তাটা আজকে কিরকম অন্যরকম। এ যেন এক গ্রামীণ পরিবেশ। মেলার ভেতর ঢুকতেই কানে আসবে ঢাকের তালে তালে উৎসবের আহ্বান। সেই সঙ্গে মাইকের শ্রুতি মধুর বাংলা গান। কিছুটা এগিয়ে গেলে চোখে পড়বে উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা চড়ক গাছ। আর তার চারপাশে উৎসুক জনতার ভিড়।
এই মেলার মূল আকর্ষণ চড়ক পুজো। যা উৎসর্গ করা হয় ভগবান শিব’কে। ভক্তদের মধ্যে কেউ কেউ কঠোর ব্রত পালন করেন।
একদিকে নাগরদোলা ঘুরছে অনবরত। ছোটদের উচ্ছ্বাস আর বড়দের নস্টালজিয়া এক সুতোয় বাঁধা।
একটু সামনের দিকে এগিয়ে গেলে মিলবে খাওয়ার দোকান। শেখানেও লম্বা লাইন। আছে জিলিপি ঘুগনি পাঁপড় তেলেভাজা। সব মিলিয়ে এক লোভনীয় আয়োজন।

চড়ক পূজোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কঠোর আচার। যদিও ১৮৬৩ সালে ব্রিটিশ সরকার আইন করে এই ধরনের। শারীরিক যন্ত্রণাদায়ক অনেক প্রথা বন্ধ করেছিল ।তবুও গ্রাম বাংলায় এমনকি মফস্বল শহরের বহু জায়গায় আজও তা প্রচলিত।
প্রায় ৩০- ৩৫ ফুট উঁচু চড়ক গাছ। পুরনো গাছের গুড়ি। সারাটা বছর জলে ডুবিয়ে রাখা হয়। শুধু পুজোর আগে সেটাকে তোলা হয় আবার পুকুরে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। সূর্যাস্তের আগে শুরু হয় পুজো। গ্রামের মানুষ যেন ধীরে ধীরে জড়ো হয় ছোট্ট মাঠে। ডায়মন্ড হারবার গোষ্ঠ মেলা চলে প্রায় সাত দিনের বেশ সময়।তবে মেলা শেষ হলেও তার রেশ বেশ কিছুদিন থেকে যায়। যাকে চলতি ভাষায় বলে বাসি মেলা। ডায়মণ্ডহারবার সহ দক্ষিণ২৪পরগণার বেশ কয়েকটি চড়ক মেলা শুধু উৎসব নয়, এক গভীর অনুভূতি।শহরের ইট,কংক্রিটের ভীড়ের মধ্যে আজও বেঁচে আছে গ্রামবাংলা তা এক জীবন্ত প্রমাণ।

ADVT



ADVT

