
প্রতীকী ছবি-
বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- প্রেম নিয়েই টানাপোড়েন আর তার জেরে নৃশংস খুন। বাড়িতে ডেকে নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক। তারপর ধারলো ব্লেড দিয়ে প্রেমিকাকে খুন। দেহ লোপাট করতে বস্তা বন্দী করে ফেলা হয়েছিল জলাশয়ে। সিনেমার গল্প কেও হার মানাবে নৃশংস এই হত্যাকান্ড। এই ঘটনা গ্রেপ্তার প্রেমিক ও তার দাদা। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে।
গত মঙ্গলবার বারুইপুরের ধোপাগাছির একটি জলাশয় থেকে উদ্ধার হয় বস্তাবন্দী এক মহিলার দেহ ।এরপরেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পুলিশের তদন্তে উঠে আসে এক ভয়ঙ্কর হাড়হীম করা খুনের কাহিনী। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘীর বাসিন্দা রুকসানা খাতুনের সঙ্গে ফোনে মিসকলের মাধ্যমে পরিচয় হয় মেহেরাজ হোসেনের। তিনি বিবাহিত ও তার সন্তানও রয়েছে। তবে এবিষয় গোপন রাখা হয়েছিল প্রেমিকা রুকসানা খাতুনকে।মেহেবুব হোসেন ও মেহেরাজের বাড়ি জয়নগরের বকুলতলা থানা এলাকায়।তবে বারুইপুর পদ্মপুকুর এলাকায় ভাড়া বাড়িতে দাদা মেহেবুব হোসেনের সঙ্গে থাকতো মেহেরাজ। গত রবিবার,বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে রুকসানাকে ডেকে আনে মেহেরাজ। তারপর দুজনের মধ্যে শারীরিক ঘনিষ্টতাও হয়। অভিজ্ঞ তদন্তকারীদের তদন্তে উঠে আসে,,বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিল রুকসানা। সেই সঙ্গে আর্থিক লেনদেন নিয়েও দুজনের মধ্যে তীব্রঅশান্তি শুরু হয়। সেই নিয়ে প্রথমে বচসা তারপরেই মানিব্যাগে থাকা ধারালো ব্লেড দিয়ে রুকসানার গলার নলি কেটে খুন করে মেহেরাজ। প্রমাণ লোপাটির জন্য মৃতদেহ বস্তাবন্দী করে ঘরে ফেলে রাখে। রাতে দাদা বাড়ি ফিরলে তাকে সমস্ত বিষয়টি জানায়। এরপরেই দাদাভাই মিলে একটি গাড়িতে করে ধোপাগাচির এক জলাশয়ে বস্তাবন্দি করে দেহ ফেলে দিয়ে আসে। সোমবার সকালে স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনার স্থলে এসে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়।পাশাপাশি শুরু হয় তদন্ত। ঘটনার তদন্ত নেমে পুলিশ স্থানীয় এলাকার সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে একটি গাড়িকে শনাক্ত করে। ঘটনার পর অভিযুক্তের দাদা পরিবার নিয়ে বকখালিতে গিয়েছিল। সেখান থেকে ফেরার পর তাকে আটক করা হয়। অন্যদিকে মেহেরাজকে বড়বাজারের একটি লুঙ্গি কারখানা থেকে ডেকে এনে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খুনের পর বস্তাবন্দী দেহ নিয়ে যে গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছিল সেই গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। রুকসানার দাদার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে বারইপুর থানার পুলিশ। ধৃত দাদা ও ভাইকে বৃহস্পতিবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়।

ADVT



ADVT


