প্রচারের শেষ দিনে ফলতা’র পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন তৃণমূলের প্রার্থী জাহাঙ্গীর

রাজনীতি রাজ্য

বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- ভোটে আর মাত্র দু দিন বাকি। আর তার ঠিক আগেই ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা এলাকার প্রচন্ড প্রভাবশালী নেতা জাহাঙ্গীর খান মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে ভোটে লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করলেন। শুধু তাই নয় প্রকাশ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়শী ও প্রশংসা করতে শোনা গেল তাঁর মুখে। জাহাঙ্গীরের দাবী, ‘ফলতার মানুষে উন্নয়ন ও শান্তির স্বার্থেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন’।
 ফলতার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে রাজ্য রাজনীতিতে জোট চর্চা শুরু হয়েছে। মাত্র কয়েকদিন আগেই ফলতার সভা থেকে জাহাঙ্গীরের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি রাজনৈতিক সভার মঞ্চ থেকেই বলেছিলেন, ‘ওর দায়িত্ব আমার উপর ছেড়ে দিন’। সেই মন্তব্যের চার দিন পর, ভোটের ময়দান ছাড়লেন জাহাঙ্গীর। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে ডায়মন্ড হারবার অঞ্চলে তৃণমূল সংগঠনের ভাঙ্গন স্পষ্ট ইঙ্গিত ইতিমধ্যে এই ঘটনা থেকেই পাওয়া যাচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে ফলতার প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গীর খান। নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই একাধিক বিতর্কের তাঁর নাম জড়িয়েছে। এবারের ভোটের আগে নির্বাচন কমিশন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিক অজয় পাল শর্মাকে পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠায় এলাকায়।সেই সময় প্রশাসনিক কড়াকড়ির মধ্যে  জাহাঙ্গীরের বক্তব্য ছিল ‘পুষ্পা ঝুকে গা নে হি’। তবে পরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ বদলাতে শুরু করে।রাজ্যে পালা বদলের পর একাধিক মামলায় জড়ানো এবং আদালত থেকে রক্ষাকবচ নেওয়ার পর থেকেই কার্যত তিনি চাপে ছিলেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন।
ফলতার এই ঘটনার পর ,বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলছেন, ‘লেজ গুটিয়ে পালিয়ে গেলেন’। আবার কটাক্ষ সুরে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলছেন, ‘বড় বড় কথা বলে শেষে ভয়ে পালিয়ে গেল’। তবে ফলতায়  ২১ তারিখে নির্বাচনের আগে আজকের এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চর্চার কেন্দ্র বিন্দু।
 মঙ্গলবার দলের অফিসিয়াল হ্যান্ডেল থেকে বিবৃতি জারি করে, জাহাঙ্গীরের সিদ্ধান্ত থেকে কার্যত দূরে রাখল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের তরফ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে ,’ফলতার পুননির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর যে সিদ্ধান্ত জাহাঙ্গীর খান নিয়েছেন তা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এটি কোনভাবেই দলের সিদ্ধান্ত নয়”।  

ADVT

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *