সরকারের সমালোচনা করায় চা প্রেমীদের স্টল বন্ধ হতে বসেছিল ! বিজেপির জয়ের আনন্দে সোনারপুরে ‘জনপ্রিয় টি স্টল’-এ পিকনিক

রাজনীতি রাজ্য

হিমাদ্রি শেখর মণ্ডল,বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:-     রাজ্যে গেরুয়া ঝড়ের দাপটে তৃণমূল নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ৪ মে থেকে রাজ্যের সাগর থেকে পাহাড়ে যে আনন্দের জোয়ার বইতে শুরু করেছে।আবার ডায়মন্ড মডেলের ফলতায় বিজেপির বিপুল ভোটে বিজেপির জয়।আর সেই আনন্দ উচ্ছ্বাস থেকে বাদ গেল না সোনারপুরও। সেই আনন্দকে স্মরণ করে সোনারপুর ঘাসিয়াড়া মোড়ে বিখ্যাত ‘খোকন টি স্টলে’-এ চায়ের আড্ডার সাথীদের নিয়ে চায়ের দোকানেই সম্পন্ন হল অভিনব পিকনিক। এই আনন্দঘন মুহূর্তের সাক্ষী হতে উপস্থিত ছিলেন একেবারে ১৭ থেকে শুরু করে ৭০ বছর বয়সী পর্যন্ত চা প্রেমীরা। সকলের উপস্থিতিতে মহাসমারোহে সন্ধে থেকে রাত পর্যন্ত চলল এলাহি খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন। তৃণমূল এবার ভোটের আগে জোর প্রচার করেছিল রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে কাউকে মাছ মাংস খেতে দেবে না তাই পিকনিকের খাবার মেনুতে মাছ-মাংস আবশ্যিক করা হয়েছিল। তার সঙ্গে ছিল ডাল, আলুভাজা, চাটনি, দই, রসগোল্লা আর সব শেষে কোল্ড ড্রিংকস। এক কথায় পেটপুরে খাবার এই আয়োজনে যোগ দিলেন প্রায় ৭০ জনের মতো চা প্রেমী।


      যে চায়ের দোকানটি সোনারপুরের ঘাসিয়াড়া মোড়ে “খোকন টি স্টল” বলে বিখ্যাত। কামরাঙ্গা চা, লঙ্কা চা, তন্দুরি চা- সহ ভ্যারাইটি চা পাওয়া যায় তার চায়ের দোকানে। খোকন দাসের আন্তরিক ভালোবাসা মিশ্রিত ও তার হাতের যাদুতে তৈরি এই কামরাঙা চা, লঙ্কা চা, তন্দুরি চা সহ ভ্যারাইটি চা একবার যাঁরা খেয়েছেন তারা এক কাপ চা খাবার জন্য অনায়াসেই এক ঘন্টা অপেক্ষা করে থাকেন। তাছাড়া এই চায়ের দোকানটি সোনারপুরে বুদ্ধিজীবীদের ঠেক বলে পরিচিত।  এদিন উপস্থিত ছিলেন ডা: বরুণ বিশ্বাস (রাজা),  সমাজসেবী চঞ্চল গোস্বামী, প্রাক্তন সেনাকর্মী ধনঞ্জয় মণ্ডল, প্রাক্তন শিক্ষক উত্তম সাহা, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক হরষিত মৃধা, অধ্যাপক সুব্রত মণ্ডল, সাংবাদিক হিমাদ্রিশেখর মণ্ডল, সাংবাদিক ভক্তরাম সরদার, শিক্ষক ননীগোপাল সূত্রধর,  শিক্ষক তরুণ সরদার, যাত্রাশিল্পী নারায়ণ মল্লিক, বিশিষ্ট সমাজকর্মী পার্থপ্রতিম মণ্ডল, শিক্ষক অর্ণব রাউৎ, সুব্রত মণ্ডল, খোকন দাস, সন্তু দেবনাথ, হিমাদ্রি পাল, সুরোজিৎ মণ্ডল প্রমুখ।
          উল্লেখ্য ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর এই চায়ের দোকানটি বন্ধ করে দিয়েছিল তৎকালীন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজপুর – সোনারপুর পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের কাউন্সিলর কৃষ্ণপদ মণ্ডলের অভিযোগ, ‘চায়ের দোকানে কেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের সমালোচনা করা হয়। তাই দোকান বন্ধ থাকবে।’ এক সপ্তাহ পর “দোকানে তৃণমূল কংগ্রেসের আর সমালোচনা হবে না” এই মর্মে অঙ্গীকার করার পর চায়ের দোকান খোলার অনুমতি মেলে। অভিযোগ, এ বারও বিধানসভা ভোটের রেজাল্টের পর চায়ের দোকান বন্ধ করে দেবার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ফলে এই চায়ের দোকানের চা প্রেমীরা চায়ের দোকানে রাজ্য রাজনীতি নিয়ে এতদিন মনখুলে কোনও আলোচনাই করতে পারেননি। স্বাধীন মত প্রকাশে তাঁদের কন্ঠরোধ করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, চায়ের দোকানে বর্তমান পেপার ছাড়া অন্য কোনও পেপার রাখা যাবে না বলে ফতোয়া জারি করেছিল তৃণমূল নেতারা। রাজ্যে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ে এই দোকানের চা প্রেমীরা যেন মুক্তির স্বাদ পেয়েছেন। তাই এটা তাঁদের কাছে দ্বিতীয় স্বাধীনতা প্রাপ্তি।


     এই দোকানে যাঁরা নিয়মিত চা খেতে আসেন তাঁরা সকলেই নিমন্ত্রিত ছিলেন এই পিকনিকে।  এখানে কোনও রাজনৈতিক রঙ দেখে এই পিকনিকের আয়োজন করা হয়নি। তবে বাংলায় বিজেপির এই ঐতিহাসিক জয়ের উচ্ছ্বাসকে সেলিব্রেট করতে সকলেই মিলিতভাবেই এই পিকনিকের আয়োজন করে। সব থেকে বড় কথা, সকলেই এই স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দের অংশীদারি হতে সন্ধে থেকে রাত বারোটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। পিকনিকে খাওয়া দাওয়ার পর অনেককেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলতে শোনা যায়, ‘আসছে বছর আবার হবে।’ প্রবীণরা দাবি করেন, “বাংলায় বিজেপি সরকারের বর্ষপূর্তিতে খোকনের চায়ের দোকানে যেন আবার এরকম একটি পিকনিকের আয়োজন করা হয় এবং সেদিন যেন তাঁদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়।” 

ADVT

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *