
বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ- খুনের ঘটনা নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। ঘটনার পর থেকেই তদন্তের শুরু হয়েছে। রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবিতে কার্যত সরব রাজ্যের বিভিন্ন মহল। আর এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেই মঙ্গলবার বারুইপুর পুলিশ সুপারের দপ্তরের এলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারাই এই পরিদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রশাসনিক মহল।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারুইপুরের এসপি অফিসে পৌঁছে, জেলার শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন। বৈঠকে বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখনো পর্যন্ত তদন্তে কি কি অগ্রগতি হয়েছে। এছাড়াও কতজন গ্রেফতার করা হয়েছে। ফরেন্সিক রিপোর্টের বর্তমান অবস্থা ।প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ প্রমাণ সংগ্রহের কাজ কতদূর এগিয়েছে। এবং তদন্তের পরবর্তী পর্যায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তদন্তে কোন ধরনের গাফিলতি বা বিলম্ব হয়েছে কিনা সে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা বারুইপুরে এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন,ডিজিপিকে ৭২ ঘণ্টার সময় দিয়েছি। তারপরেই কড়া ব্যবস্থা নেব। কাউকে ছাড়া হবে না। দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। আউটপোস্ট চালু করব। এক সপ্তাহের মধ্যে আবার আসবো। সরকার যা করেছে তা দেখতে পাবেন। যারা পুলিশের গাড়ি ভেঙেছে, রেললাইন উপড়েছে তাদের ছাড় নয়। এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে। তার ব্যবস্থা করব। যারা ভোটে হেরেছে, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। আমি ক্ষমতায় এসেই আরজিকর কাণ্ডের ৩ আইপিএসকে সাসপেন্ড করেছি। বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবারের ১০-১২ জনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা সরকারের পদক্ষেপে সন্তুষ্ট। এই ঘটনার পর যে উস্কানি দেওয়া হয়েছে, তাদের ২০০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, তিনজন পুলিশ কর্মী হাসপাতালে ভর্তি। তাঁদের আমি দেখতে যাচ্ছি”।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে পুলিশ প্রশাসনকে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পূর্ণ করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেদিক দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী এদিন বারুইপুর এসপি অফিসে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে পৌঁছান নিহত নাবালিকার পরিবারের সদস্যরা। তাদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিবারের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ শোনেন তিনি। সেই সঙ্গে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তাদের অবহিত করেন বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের দাবি- দাওয়া ও উদ্বেগের বিষয়গুলি গুরুত্ব সহকারে শোনেন তিনি।
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে,নিহত নাবালিকার পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তদন্তে কোনরকম আপোষ করা হবে না। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতেই সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
এদিন বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকার ধর্ষণ খুনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন রাজ্যে পুলিশের ডিজি সিদ্ধি নাথ গুপ্তা। সেই সাথে যে পুকুর থেকে নাবালিকার বস্তা বন্দি দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল সে জায়গাও খতিয়ে দেখেন তিনি। পরে সূর্যপুরের যে জায়গা থেকে নাবালিকাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই পাঠভবন স্কুল এর কাছে যান রাজ্যে পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা। স্কুলের ভিতরে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন ডিজি সহ অন্যান্য আধিকারিকরা ।তদন্তের গতি প্রকৃতি নিয়েও পুলিশকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন ডিজি।






