ভগবতপুর কুমির প্রকল্পে ‘মিনি জু’ গড়ার আশ্বাসে খুশির হাওয়া পর্যটক মহলে

অন্যান্য ভ্রমণ স্বাস্থ্য

তপন কুমার দাস (পাথর প্রতিমা) বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:-

ঘুরতে কে না ভালোবাসে আর ছুটির দিন হলেই বাড়ির খুদে সদস্যদের আবদার মেটাতে খুব কাছেই  আলিপুর চিড়িয়াখানা তো আছেই।আলাদা করে শুধু কুমির দেখতে কোলকাতার খুব কাছা কাছি সুন্দরবনের পাথরপ্রতিমার কুমির প্রকল্প ।  তবে এবার সেই ভাগবতপুর কুমির প্রকল্পের পুনর্গঠন, আধুনিকীকরণ এবং এটিকে স্যাটেলাইট জু বা (মিনি জু) হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সম্প্রতি আবেদন জমা পড়েছে  কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী কাছে।দীর্ঘ দিনের দাবি মিটতে চলায় খুশির হাওয়া স্থানীয় বাসিন্দা থেকে পর্যটক মহলে।

 সুন্দরবনের সপ্তমুখী নদীর তীরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা ব্লকে অবস্থিত ভাগবতপুর কুমির প্রকল্প। পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র কুমির সংরক্ষণ ও প্রজনন কেন্দ্র। ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রকল্পে কৃত্রিম হ্যাচারির মাধ্যমে নোনা জলের কুমির এবং বিরল প্রজাতির বাটাগুর বাসকা কচ্ছপের সংরক্ষণ ও প্রজননের কাজ শুরু হয়। একসময় দেশ-বিদেশের পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ ছিল এই প্রকল্প।
কিন্তু গত কয়েক বছরে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল, আম্ফান এবং ইয়াস-এর মতো একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রকল্পের পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও উন্নয়নের একাধিক প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে উল্লেখযোগ্য কাজ হয়নি। ফলে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
এই পরিস্থিতিতে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার সম্প্রতি কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব-এর কাছে ভাগবতপুর কুমির প্রকল্পের পুনর্গঠন, আধুনিকীকরণ এবং এটিকে স্যাটেলাইট জু বা (মিনি জু) হিসেবে গড়ে তোলার আবেদন জানান।
এবিষয় সাংসদ বাপি হালদারের দাবি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে প্রকল্পটিকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
এই আশ্বাসেই সুন্দরবনের বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের সঙ্গেও যুক্ত মানুষদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। প্রকল্পটির আধুনিকীকরণ হলে একদিকে যেমন বিরল বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে নতুন দিগন্ত খুলবে, অন্যদিকে সুন্দরবনের পর্যটন শিল্পও নতুন গতি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *