
তোতন দাশ,বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- শুধু কথা নয় কাজ। এইতো মাত্র চার মাস আগেই রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপি সরকার গঠন করেছে পশ্চিমবঙ্গে। শপথ গ্রহণের কয়েকদিনের মধ্যেই জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্য খাতে বড় বিনিয়োগ করতে চলেছে আদানি গোষ্ঠী। সেইসঙ্গে তিনি জানিয়েছিলেন আদানি গ্রুপ এই নিয়ে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নিউটনের গড়ে উঠবে ২হাজার শয্যার অত্যাধুনিক মানের হাসপাতাল। আর সেখানে পরিষেবা পাবেন সমাজে দরিদ্র শ্রেণীর মানুষ। ওই হাসপাতালে ১০০০ বেড বরাদ্দ থাকবে শুধু গরিবদের জন্য তাও আবার মিলবে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা। আর ১০০০ বেড বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার হবে। বেশ কিছুদিন ধরেই এ বিষয়ে নিয়ে মানুষ জনের মধ্যে চর্চা শুরু হয়েছিল। আর কথা দিয়ে কথা রাখলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বৃহস্পতিবার নিউটাউনে ৫১ একর জমিতে সেই হাসপাতালের ভূমিপুজোর সঙ্গে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি।
জানা গিয়েছে এই হাসপাতালের জন্য প্রায় ৪০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে ।সেই সাথে আরো জানা গেছে, আগামী ১০ বছরের মধ্যে বাংলায় লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে আদানি-গোষ্ঠী।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘বাংলার জন্য এটা ঐতিহাসিক দিন ।দেশের কোথাও গরিবদের জন্য এমন ব্যবস্থা নেই। তিনি আরো জানান বাংলাকে পুনর্গঠন ইচ্ছুক আদানি গোষ্ঠী। এদিনের অনুষ্ঠান থেকে বাম ও তৃণমূলকে নিশানা করেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে সরাসরি নিশানা করে বলেন, ‘উনি শুধু করবো করবো বলেছেন, আর ভাতা দিয়েছেন’। এদিনের অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরেই করণ আদানি আমার সঙ্গে দেখা করেন তিনি বলেছিলেন মডার্ন হাসপাতাল তৈরি করতে চান নিউ টাউনে। আমি সম্মতি দিই। আমি ওদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি ।গৌতম আদানিজীর সবুজ সংকেত মিলতেই কয়েক মাসের মধ্যেই ভূমি পুজো হয়ে গেল’। পাশাপাশি এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ৫১ একর জমির উপরে এই হাসপাতালে ৫০% বেড পাবেন গরিবরা, তা একেবারে বিনামূল্যে। একটা বড় বিষয় এটা গোটা ভারতে কোথাও নেই এই ধরনের হাইস্ট্যান্ডার হাসপাতাল গরিবদের চিকিৎসা কোথাও হয়না। তাই বাংলার জন্য আজ একটা ঐতিহাসিক দিন। এটা একটা মাইলস্টোন। হাসপাতাল কে কেন্দ্র করে নিউটাউনে স্বাস্থ্য নগরী তৈরি হবে’। পাশাপাশি তিনি বামেদের নিশানা করে বলেন ,’বাংলা অনেক দুর্ভোগ সহ্য করেছে। বাম আমলে ইউনিয়নের ঝামেলায় ৫৪ টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। গত ১৫ বছরে তৃণমূল সরকার শিল্প নিয়ে আগ্রহীই ছিলনা ।ওরা শুধু ভাতা দিয়েছে আর রাজনীতি করেছে ।তাই আমি আদানিজিকে বলবো আপনি পারবেন বাংলাকে দাঁড় করাতে। তাই প্লিজ আমাকে সাহায্য করুন’।
প্রসঙ্গত রাজ্য বাম জমানার অবসানে একেবারে শেষ মুহূর্তে সিঙ্গুর থেকে টাটা চলে যাবার পর তেমন কোন বড় বিনিয়োগ হয়নি বাংলায়। তবে বিগত রাজ্য সরকার বিশ্ববাংলা বাণিজ্য সম্মেলনেরও আয়োজনও করছিল বেশ কয়েকবার। সেখানে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য চুক্তি ও স্বাক্ষরিত হয়েছিল তৃণমূল জমানায়। কিন্তু একটা ও কোনভাবেই বাস্তবায়িত হয়নি বলে মনে করেন ওয়কিবহল মহল। কিন্তু রাজ্যের পালা বদলের পর বিজেপি ক্ষমতায় এসে একের পর এক বন্ধ জুট মিল খুলে রাজ্যের শিল্প এবং বিনিয়োগের হাল ফেরাতে তৎপর হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কখনো শিল্পপতি আম্বানির আবার কখনো আদানি গোষ্ঠী তাদের কাছে ছুটে গিয়েছেন রাজ্যের শিল্পে বিনিয়োগের জন্য। পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের খরা কাটিয়ে রাজ্যে বিনিয়োগ মুখী করে তুলতে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন সমাজের সর্বস্তরের মানুষজন।

ADVT

ADVT


ADVT

