
তোতন দাশ,বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- আর হাতে গোনা কয়েকটা দিন। আর তারপরেই গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬। চলতি বছর কুম্ভ মেলা না থাকায় ভিড় বাড়বে এমনই মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা। ভীড় মোকাবেলার জন্য ইতিমধ্যে গত কয়েক মাস ধরেই চলছে বিভিন্ন প্রস্তুতি পর্ব, দফায় দফায় বৈঠক,পরিদর্শন ।বুধবার ৩১/১২/২০২৫বছর শেষের দিন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সদর আলিপুরের জেলা পরিষদের কনফারেন্স হলে গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬ নিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, জেলাশাসক অরবিন্দ কুমার মিনা, জেলা সমাধিপতি নীলিমা বিশাল মিস্ত্রি, সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও, অতিরিক্ত জেলাশাসক অভনীত পুনিয়া,প্রশান্ত রাজ শুক্লা ,সাদ্দাম নাভাস, ভাস্কর পাল, সৌমেন পাল এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার তথ্য সংস্কৃতি আধিকারিক অনন্যা মজুমদার প্রমুখ।
এদিন জেলাশাসক অরবিন্দ কুমার মিনা বলেন ,কোলকাতা বাবুঘাট থেকে প্রায় ২৫০০ টি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে মেলায় আসা তীর্থযাত্রীদের জন্য। পুণ্যার্থীদের ভীড় সামলাতে এছাড়া তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেলা প্রাঙ্গণে ও সংলগ্ন এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে। সেই সঙ্গে এবার বাড়ানো হয়েছে। ড্রপ গেটের সংখ্যা। লাগানো হচ্ছে ট্রাফিক লাইট যাতে কোন ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে।
জেলা সভাধিপতি নিলীমা বিশাল মিস্ত্রি বলেন, গতবছর সফলতার সঙ্গে গঙ্গাসাগর মেলা সম্পন্ন হয়েছে। এবার কুম্ভ মেলা না থাকায় অতিরিক্ত তীর্থযাত্রী আসবেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্ণ সহযোগিতায় বাড়তি ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা হয়েছে। মকর সংক্রান্তিতে এবারও সুষ্ঠু পরিষেবায় পুণার্থীরা স্নান সেরে বাড়ি ফিরবেন।
জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এবার গঙ্গাসাগর মেলার জন্য ২১ টি জেটি হয়েছে। এরমধ্যে ১০টি স্থায়ী এবং ১১ টি অস্থায়ী ।১৩টি বার্জ থাকছে। যেখানে গত বছর ১১টি বার্জ ছিল। এগুলির পরিবহন ক্ষমতা ১000 থেকে ২,৫00 জন। ৪৫ টি ভেসেল এবং ১০০ টি কাঠের লঞ্চ রাখা হয়েছে। প্রতিটাতেই জি পি এস ডিভাইস থাকছে ।এছাড়া ১৬ টি বাফার জোন, সাতটি স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক। মেগা কন্ট্রোল রুম। প্রায় ১,২০০ সিসি ক্যামেরা,২০ টি ড্রোন ৫৪ কিলোমিটার ব্যারিকেট করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৫০০ জন সিভিল ডিফেন্স কর্মী, নেভি ,এন ডি আর এফ, এস ডি আর এফ,,কোস্টগার্ড থাকছে। ১৮ ওটি অস্থায়ী দমকল কেন্দ্র থাকবে। প্রচুর ফগ লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে যা মুড়িগঙ্গা নদীর উপরে বৈদ্যুতিক টাওয়ারগুলির উপর ।দুর্ঘটনার জড়িত ইন্সুরেন্স এর জন্য জন প্রতি ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। প্রায় ১৫০টি এনজিওর সঙ্গে ১০ হাজার ভলান্টিয়ার থাকছে। ৭টি সলিট ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা থাকবে।

স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য গঙ্গাসাগর ও আশপাশে পাঁচটি অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরি রাখা হয়েছে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায়। মোট ৫৪০ টি বেডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। থাকবে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, জল অ্যাম্বুলেন্স,,১০০টি সাধারণ অ্যাম্বুলেন্স। পাশাপাশি ৭টি WI-FI (ওয়াই ফাই)জোন করা হচ্ছে। যেগুলিতে ফ্রি কলিং এর ব্যবস্থা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়েছে, এবছর মেলা গ্রাউন্ড যে নজরদারবি বাড়ানো হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ইসরোর তৈরি প্রযুক্তি ব্যবহার করে গঙ্গাসাগর গামী বাস ও নদীপথে চলাচলকারী রিলে টাইমে নজরদারি রাখা হবে। সে ক্ষেত্রে কোন গাড়ি নির্ধারিত পথ থেকে সরে গেলেই সঙ্গে সঙ্গে কন্ট্রোল রুমে সতর্ক বার্তা পৌঁছে যাবে। যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। প্রশাসনের দাবি এবছর নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা বিগত গঙ্গাসাগর মেলা থেকে অনেক অনেক বেশি কঠোর হবে। পুণ্যার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে নিশ্চিন্তে পুণ্যস্নান সেরে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন সেই লক্ষ্য নিয়েই এই বাড়তি নজরদারি।

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

খবর এবং বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন:- ৯১৫৩০৪৩৩৮০
