
তোতন দাস,বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:-মাছ-কাঁকড়া ধরে কোন ক্রমে সংসার চালান ।প্রতিদিনের মত আজও গিয়েছিলেন নদীতে মাছ ধরতে।তবে এমন ঘটনা ঘটবে তা ঘুণাক্ষরে টেরও পাননি ওই গৃহবধূ।সবে মাছ ধরার সুতিতে টান পরতেই ভেবে ছিলেন কিছু আটকেছে, তাই দেরি না করে হাতে টানা ছেকনি জাল নিয়ে নদীতে নামতেই একেবারে কোমরে কামড় বসায় কুমির।তবে তাঁর উপস্থিত বুদ্ধির জোরে কুমিরের সঙ্গে রীতিমত লড়াই করে প্রাণে বাঁচলেন পাথরপ্রতিমার গৃহবধূ প্রণতি প্রামানিক(৩৭)।আহত অবস্থায় তিনি বর্তমানে পাথরপ্রতিমা ব্লক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।তাঁর এই সাহসিকতার তারিফ করছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে,দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সুন্দরবনের পাথরপ্রতিমা ব্লকের বনশ্যামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের অশ্বিনী মাইতির খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকা কুমিরের সঙ্গে দীর্ঘ এক ঘন্টা লড়াই করে টানে বেঁচে ফিরলেন বছর ৩৭ এর গৃহবধূ প্রনতি প্রামানিক । ওই গৃহবধূর স্বামী গৌতম প্রামানিক পেশায় একজন পরিযায়ী শ্রমিক।, দীর্ঘদিন ধরে একটি ভাঙা ঘরে দুই মেয়েকে নিয়ে চরম দারিদ্রতার সঙ্গে বসবাস করেন তিনি । নদীতে মাছ কাঁকড়া ধরে কোনক্রমে সংসার চালানোর পাশাপাশি মেয়ের পড়াশোনা করান। আহত ওই গৃহবধূর পরিবারের আত্মীয় গীতারানি মাঝি জানান, প্রতি দিনের ন্যায় আজ সকাল ছটা নাগাদ অশ্বিনী মাইতির খেয়াঘাট সংলগ্ন জঙ্গলে কাঁকড়া ধরতে যায় প্রণতি দেবী, সুতিতে টান পড়ায় হাতে টানা ছেকনি জাল নিয়ে নদীতে নেমে পড়ে প্রণতি দেবী। হঠাৎ একটা কুমির কোমরে কামড়ে ধরে। প্রাণে বাঁচতে সামনে থাকা একটা গাছটিকে জড়িয়ে ধরে নিজের কাপড় দিয়েই গাছের সঙ্গেকোন ক্রমে জড়িয়ে নেন।এর পরই প্রচন্ড চিৎকার করতে থাকেন। অন্যদিকে কুমিরও নাছোড়বান্দা।গভীর জলে টেনে নিয়ে যাবে আর প্রণতী প্রাণ বাঁচতে চিৎকার চেঁচামেচি করতে থাকে। ইতিমধ্যে শিকারকে ঘায়েল করতে প্রণতির দেহের বিভিন্ন জায়গায় কামড় দিয়েছে লেজ দিয়ে ঝাপটা মেরেছে কুমির।এদিকে তাঁর চিৎকারে এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা দৌড়ে আসেন। প্রচুর লোকজনকে দেখে কুমির ভয় পেয়ে শিকার ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে রক্তাত্ব অবস্থায় আহত ওই গৃহবধূকে পাথর প্রতিমা গ্রামীণ হাসপাতালের নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেখানে চলছে চিকিৎসা। তবে অসীম সাহস ও রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর বর্তমানে জীবন ফিরে পেয়ে খুব খুশি গৃহবধূ প্রণতি প্রামানিক।

ADVT


ADVT

ADVT

ADVT

খবর ও বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন:- ৯১৫৩০৪৩৩৮০
