
নিতাই মালাকার (কোলকাতা) বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- পুঁজিবাজারে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা গত এক দশকে ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষে রাজ্যে যেখানে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১২ লক্ষ, বর্তমানে তা বেড়ে ৯০ লক্ষ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৬ শতাংশ বিনিয়োগকারীর বয়স ৩০ বছরের নীচে। শনিবার কলকাতায় ভারত চেম্বার অফ কমার্সের উদ্যোগে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (সেবি)-র চেয়ারম্যান তুহিন কান্ত পাণ্ডে।
তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতির বৃদ্ধির হার আনুমানিক ৭.৬ শতাংশ। রাজ্যের ৪০টিরও বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি সংস্থা (এসএমই) পুঁজিবাজারের মাধ্যমে আইপিও ছেড়ে এখনও পর্যন্ত ১,৪০০ কোটি টাকারও বেশি মূলধন সংগ্রহ করেছে।
ভারতের পুঁজিবাজারের গত এক দশকের অগ্রগতির পরিসংখ্যান তুলে ধরে সেবি চেয়ারম্যান জানান, গত ১০ বছরে দেশের বাজার মূলধন বার্ষিক গড়ে প্রায় ১৭ শতাংশ হারে বেড়েছে। এই সময়ে সংস্থাগুলি ইক্যুইটি ও ঋণপত্রের মাধ্যমে বছরে গড়ে ১০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি মূলধন সংগ্রহ করেছে। কর্পোরেট বন্ডের মোট বকেয়া অর্থের পরিমাণ পৌঁছেছে প্রায় ৬১ লক্ষ কোটি টাকায়। মিউচুয়াল ফান্ডের সম্পদও বার্ষিক গড়ে ২০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষের তুলনায় দেশের পুঁজিবাজারে স্বতন্ত্র বিনিয়োগকারীর সংখ্যা চার গুণ বেড়ে ১৫ কোটির বেশি হয়েছে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৮৯টি আইপিও-র মাধ্যমে ৯৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূলধন সংগ্রহ হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তুহিন কান্ত পাণ্ডে বলেন, ব্যবসায়িক সংস্থার মূলধন সংগ্রহের প্রক্রিয়া সহজ করতে আইপিও এবং রাইটস ইস্যুর সময়সীমা কমানো হয়েছে। ঋণপত্রের তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়াও সরল করা হয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষায় সেবি একাধিক পদক্ষেপ করেছে। ভুয়ো লেনদেন রুখতে বৈধ ইউপিআই হ্যান্ডেল ও ‘সেবি চেক’ চালু করা হয়েছে। অভিযোগ নিষ্পত্তিতে ‘স্কোরস ২.০’ এবং অনলাইন ডিসপিউট রেজোলিউশন ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের সচেতনতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশজুড়ে ৪১ হাজারেরও বেশি সচেতনতা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। তাতে অংশ নিয়েছেন ২২ লক্ষের বেশি মানুষ। দ্রুত মুনাফার প্রলোভন, সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পরামর্শ এবং ডিজিটাল প্রতারণা সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, পুঁজিবাজারের প্রকৃত উন্নতির জন্য বাজারের প্রসারের পাশাপাশি স্বচ্ছতা, সুশাসন এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

