
বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায়ের সঙ্গে আরও এক বিখ্যাত চিকিৎসকের নাম উচ্চারিত হয় তাঁর নাম। রবিবার সন্ধ্যায় বালিগঞ্জ প্লেসের বাড়িতে প্রয়াত হন চিকিৎসক মণি ছেত্রী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০৬ বছর। তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গেছে,দিন ১৫ আগে পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পান। হাসপাতাল থেকে ফেরার পরে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছিলেন।তাঁর প্রয়াণে শোকাহত চিকিৎসক মহল।
১৯২০ সালে ২৩ শে মে পরাধীন ভারতের দার্জিলিং এ জন্ম মণি ছেত্রীর। তাঁর শৈশব জীবন কেটেছিল পাহাড়ে। প্রাথমিক শিক্ষা দার্জিলিং এর একটি স্কুলে। ১৯৪৪ সালে এমবিবিএস পাস করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যান। তবে কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিছেন দেশেই। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে মনি ছেত্রী জনপ্রিয়তা খ্যাতি সমগ্র বিশ্বজুড়ে।
একসময় তিনি কোলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালের অধিকর্তাও ছিলেন। এক হাতে রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তার দায়িত্ব। তবে প্রশাসনিক কাজের মধ্যে রোগী দেখার কাজও সমান তালে চালিয়ে গেছেন।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের স্বীকৃত স্বরূপ বহু পুরস্কার পেয়েছেন ।১৯৭৪ সালে তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। ১৯৮২ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরেও নিয়মিত রোগী দেখতেন। কয়েক বছর আগে ডিমনেসিয়ায় আক্রান্ত হন। আর তাঁর ফলেই স্মৃতিশক্তি হারান। রোগী দেখাও ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। চিকিৎসকের পরিবার সূত্রে আরও জানা গেছে, মাত্র বছর দুয়েক আগে পর্যন্ত নিয়মিত চিকিৎসা করতেন তিনি।
কয়েকদিন আগে বাড়িতে পড়ে যান তখনই মাথায় চোট পান তিনি। ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। তবে বাড়ি ফেরার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একেবারেই শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। রবিবার সন্ধ্যায় বালিগঞ্জ প্লেসের বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন চিকিৎসক মণি ছেত্রী।তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরাম।

ADVT



ADVT


