স্কলারশিপে আমেরিকায় পাড়ি দিচ্ছে সুন্দরবনের কন্যা, শিক্ষান্তে দেশে ফিরে নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করতে চায়  সায়ন্তনী

রাজ্য শিক্ষা

তোতন দাশ,বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:-   বাবাপেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। পাশাপাশি একটি সেচ্ছাসেবি সংগঠনও চালান। আর সেই সুবাদে শৈশবে বাবা সাথে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত দ্বীপাঞ্চল গুলিতে ঘুরতে গিয়ে সেখানের বিশেষ করে মহিলাদের আর্থ-সামাজিক অনুন্নয়ন লক্ষ্য করেছে।আর তাঁদের জন্য কিছু একটা করতেই হবে, এই ভাবনা ছোট বেলা থেকেই ভাবিয়ে তুলে ছিল ডায়মণ্ডহারবার মহকুমার রায়দীঘির সায়ন্তনী’র।  সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষাঙ্গনে উজ্জ্বল সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করল সায়ন্তনী হালদার (১৮)।রবিবার সকালে আমেরিকার প্রখ্যাত কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত বার্নার্ড কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘ফুলব্রাইট স্কলারশিপে’ সায়ন্তনী সেখানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছে।

জানা গেছে, বার্নার্ড কলেজে ইকোনোমিক্স, পলিটিক্যাল সায়েন্স, ফিলোসফি, সোশ্যাল সায়েন্স ও আইন—এই বিষয়গুলিতে গ্র্যাজুয়েশন, পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন থেকে শুরু করে পিএইচডি পর্যন্ত পড়াশোনার সুবর্ণ সুযোগ পাচ্ছে ওই মেধাবী ছাত্রী। ছোটবেলা থেকেই আমেরিকায় পড়াশোনার স্বপ্ন দেখত সায়ন্তনী, আর সেই স্বপ্নই আজ বাস্তবে রূপ নিল।
সায়ন্তনীর মা কৃষ্ণা হালদার একজন গৃহবধূ এবং পিতা শংকর হালদার পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। তাঁদের আদি বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনের রায়দিঘী ব্লকের নগেন্দ্রপুর অঞ্চলের পূর্ব শ্রীধরপুর গ্রামে। পরিবারটি আজও সুন্দরবন তথা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সমাজসেবামূলক কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত।বর্তমানে দক্ষিণ২৪পরগণার নরেন্দ্রপুরে বসবাস করেন।
 নারীদের আর্থিক স্বাধীনতায় দৃঢ় বিশ্বাসী সায়ন্তনী বাংলার চাণক্য নিউজকে জানান, “ভবিষ্যতে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরে এসে দেশের নারীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে কাজ করার ইচ্ছা”।

 জানা গেছে, এই কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অতীতে আমেরিকার প্রভাবশালী রাষ্ট্রপতি ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট, বারাক ওবামা-সহ বহু নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ও অর্থনীতিবিদ শিক্ষালাভ করেছেন।
আজ এই সুখবরটা পেয়েই সায়ন্তনী তাঁর বাবাকে সঙ্গে নিয়ে মথুরাপুরের কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক চন্দন কুমার মাইতির সাথে দেখা করেন।তাঁকে স্বামী বিবেকানন্দের উপরে লেখা বই,নতুন বছরের ডাইরি,চকলেট,উপহার দেওয়ার পাশাপাশি খুব ভালো করে পড়াশোনা করে আগামী দিনে সমাজের জন্য কাজ করতে উৎসাহ দেন শিক্ষক চন্দন কুমার মাইতি।   

সমাজের অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন, ‘বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য যাওয়া একজন প্রত্যন্ত এলাকার মেয়ে, যখন দেশে ফিরে মহিলাদের জন্য কাজ করতে চায় তখন এটি একটি দারুন উদ্যোগ। যা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের সব থেকে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে সে বিদেশে অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান বা নারী ক্ষমতায়নের মতো ক্ষেত্রে কাজ করতে পারে। যার জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং নারীর স্বনির্ভরতা  নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ’।  সুন্দরবনের এই কন্যা ভবিষ্যতে একজন সমাজবিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করে দেশের সমাজ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে—বলে আশা করছেন  এলাকাবাসীরাও।

 

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

খবর এবং বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন:- ৯১৫৩০৪৩৩৮০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *