
তোতন দাস,বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- প্রেমিকাকে সঙ্গে নিয়ে স্বামীকে খুন করল স্ত্রী!প্রায় দুমাসের বেশি সময় পর অবশেষে এলাকার স্থানীয় স্কুল লাগোয়া ঝোপ ঝাড়ে ভর্তি পেয়ারা বাগান থেকে উদ্ধার হল মৃত স্বামীর হাড়-গোড় মাথার আর মাথার খুলি। আর এই ঘটনা চাউর হতেই উস্তির শিবপুরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।
জানা গেছে ,ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার উস্তি থানা এলাকার হরিহরপুর পুরকাইত পাড়ার বাসিন্দা মহসিন হালদার ।পেশায় তিনি একজন কাঠ ব্যবসায়ী। অভিযোগ গত দুমাসের থেকেও বেশি সময় ধরে তিনি নিখোঁজ ছিলেন ।তাঁর পরিবারে তরফ থেকে উস্তি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। এরপরই ঘটনা তদন্ত নামে পুলিশ ।তবে ঘটনাটি একেবারে সহজ সরল নয় তা দুঁদে তদন্তকারীরা আগে ভাগে বুঝতে পেরেছিলেন। আর তাই প্রথম থেকেই একাধিক সোর্স কে কাজে লাগিয়ে, ব্যবসায়ী মহসিন হালদারের এক কর্মচারী হাবিবুল্লাহ খাঁন এর খোঁজ শুরু করেন তদন্তকারীরা । তাঁকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে জানতে পারে ওই ব্যবসায়ীকে খুন করা হয়েছে। কারণ হিসেবে উঠে আসে,ব্যবসায়ের স্ত্রীর সঙ্গে হাবিবুল্লা খাঁনের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। এই ঘটনা জানার পরই নিখোঁজ ব্যবসায়ীর স্ত্রী তনুজা বিবিকে ও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারীরা ।আর সেখানেই উঠে আসে স্বামীর নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন স্ত্রী তনুজা বিবি,যাতে কেউ তাঁকে সন্দেহ না করে। তদন্তকারীরা সুত্রে আরও জানা গেছে,দুজনের অবৈধ সম্পর্কের বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল স্বামী। আর তাঁকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে ফেলতেই পরিকল্পিত ভাবে ওই শিবপুরের নির্জন স্থান বেছে নেওয়া হয়েছিল।তারপর সেখানে স্বামীকে ডেকে নিয়ে খুন করে দেহ লোপাট করতে জঙ্গলে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।

জানা গেছে,থানায় লিখিত অভিযোগের পরই নিখোঁজ প্রথম থেকেই ব্যবসায়ীর স্ত্রীর গতিবিধির উপরে কড়া নজর রাখা ছিল সাদা পোশাকের পুলিশ । তদন্তকারী সূত্রে আরও জানা গেছে,স্বামীর মৃত্যুর পর তনুজা বিবি ও হাবিবুল্লা খাঁন একসঙ্গে ডায়মন্ড হারবারের হোটেলেও গিয়েছিল। কারণ আগে থেকেই তাঁদের উপর নজর ছিল তদন্তকারীদের। এরপরই তনুজা বিবিকে গ্রেপ্তার করা হয়।হাবিবুল্লা খাঁন ও তনুজা বিবিকে প্রথমে আলাদা আলাদা জিজ্ঞাসাবাদ পরে দুজনকে একসঙ্গে বসিয়ে তদন্তকারীদের জেরায় তাঁদের অবৈধ সম্পর্ক কথা ফাঁস করেন। সোমবার উস্তির শিবপুর এলাকার স্থানীয় স্কুল লাগোয়া পেয়ারা বাগানের মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয় হাড়গোড়,মাথার খুলি ।ইতিমধ্যে সেগুলির ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে এদিন এক সাংবাদিক সম্মেলনে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জোনাল) মিতুন কুমার দে সাংবাদিকদের বলেন, “মহসিন হালদারের স্ত্রী তনুজা বিবি নিজে তাঁর স্বামীকে বেশ কিছুদিন পাওয়া যাচ্ছে না বলে পুলিশকে জানিয়েছিল ।ঘটনা তদন্ত নেমে উস্তি থানা পুলিশ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। মহসিন এর ২৫ বছরের ছেলে তৈয়ব আলী হালদার কেও জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। এরপর হাবিবুল্লাকে ও তনুজাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে পুলিশ মহসিনের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয় হয়”।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে,ধৃত দের নিজেদের হেপাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে এই হত্যা সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কিনা সে বিষয় জানার পাশাপাশি ঘটনার পুন:নির্মান করতে চাইছেন অভিজ্ঞ তদন্তকারীরা।

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

খবর এবং বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন:- ৯১৫৩০৪৩৩৮০
